আবেগের বিকার

Standard

আবেগের বিকার বলে একটা ব্যাপার আছে। সকালে ঘুম ভাঙ্গার পর বালিশের নিচ থেকে মোবাইল বের করে তার জানতে ইচ্ছে করছে না, এখন কতটা বাজে। বিছানা থেকে উঠতে ইচ্ছে করে না। চোখ মেলে রাখতেও ইচ্ছে করে না। চোখে ঘুম এবং স্বপ্ন কোনটাই নেই।

কেউ দরজায় কড়া নাড়লে উঠে গিয়ে দরজা খুলতেও কষ্ট হয় অনেক। কেউ কিছু বললে সেটা শুনতে ভাল লাগে না। মাথা কেমন ভারী ভারী লাগে। মনে হয় মাথার ভেতরে কেমন জট বেঁধে আছে। এই জট খুলতেও ইচ্ছে করে না।

জীবনের প্রতি একটা বিতৃষ্ণা চলে আসে। কোন সুসংবাদ এবং প্রাপ্তিতে কিছুই আসে যায় না। একা থাকতে ইচ্ছে করে কিন্তু একা একা ভাল লাগে না। সে Affective Disorder এ ভুগছে। খিদে পেলে উঠে গিয়ে কিছু খেতে ইচ্ছে করে না। নিজেকে শারীরিক এবং মানসিক ভাবে কষ্ট দিতে তার ভাল লাগে। কষ্টের গান শুনে শুনে সে ভাবে গানের এই লাইনটি তার জন্যই লেখা হয়েছে। খুঁজে খুঁজে পুরনো দুঃখ কষ্টের কথা ভেবে ফ্লোরে চিত হয়ে শুয়ে থাকতে তার ভাল লাগে। কান্না ভাল লাগে না কিন্তু দুয়োর বন্ধ করে কাঁদতে ইচ্ছে করে। কেমন একটা দোদুল্যমান অবস্থা…

একসময় তার আশে পাশের সবার উপর রাগ জন্মাতে শুরু করে। সে রাগ চেপে রাখে। এই ব্যাপারটি তাকে আরও বেশি কষ্ট দেয়। সে জানে সে ভেঙ্গে পড়ছে, তার এখান থেকে উঠে আসাটা জরুরী। সে ভেঙ্গে পড়তে চায় না; আবার চায়। একসময় সে খুব অভিমানী হয়ে উঠে। সবাই জিততে চায় না; কেউ কেউ হারতে চায়। তার খুব হেরে জেতে ইচ্ছে করে।
একসময় এভাবে বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়াই ভাল, এইরকম নানান চিন্তা আসতে শুরু করে। সে মরে যাবার পর কোন কোন মানুষ তার জন্য কাঁদবে এরকম কিছু মানুষের চেহারা চিন্তা করতে তার ভাল লাগে।

ছাদের উপর থেকে নিচের রাস্তায় নিজের থেঁতলানো শরীর কল্পনা করতে তার খুব ভয় লাগে। কিছু ঘুমের ওষুধ নিজের সাথে রেখে দেয়। মাঝে মাঝে রাতে ওষুধের গোপন ডিব্বা বিছানায় নিয়ে বসে। কত রকমের চিন্তা আসে। কখনো ধর্ম চিন্তা আসে। সে মরে গেলে কী জাহান্নামে যাবে ? আল্লাহ নিশ্চয়ই তাকে ভুল বুঝবে না, এই জাতীয় চিন্তাও তার মনের ভেতরে খেলে। কখনো নিজেই নিজের গলা চেপে ধরে।
দেখতে চায় শরীরের কতটুকু যন্ত্রণা সে সহ্য করতে পারবে। মানুষ এই একটা জায়গায় এসে হেরে যায়। মানুষ অনেক ভাবেই নিজেকে নিঃস্বেষ করে ফেলতে পারে। তবে কেউই কখনো নিজেকে সজ্ঞানে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলতে পারবে না।

ব্রীজ থেকে ঝাপ দিয়ে যে মাঝনদীতে অক্সিজেনের অভাবে হাবুডুবু খাচ্ছে সে চাইলেও নিজেকে কয়েক সেকেন্ড আগের অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে না। রাইফেলে একবার চাপ দিয়ে দিলে তার আর কিছু করার থাকে না। সব নিয়ন্ত্রণ বুলেটের কাছে চলে যায়। গায়ে কেরাসিন লাগিয়ে ম্যাচের কাঠি জ্বালিয়ে দেবার কয়েক মুহূর্ত পরে সে চাইলেও এর থেকে নিস্তার পায় না।

তানাহলে সেই চিত্রটাই দেখা যেত যেটা নিজেকে নিজে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলতে যাবার সময় ঘটে। নিজের ফুসফুসে একটু ব্যথা শুরু হলেই হাত গুটিয়ে নেয়। জীবনের প্রতি যতই বিতৃষ্ণা চলে আসুক না কেন, নিজের জীবনের চাইতে বেশি সে আর কোন কিছুকেই ভালোবাসে নি।

আগেও বলেছিলাম, আবারও বলছি। টাইম ইজ দা মেইন হিলার। সব কিছু সময়ের উপর ছেড়ে দিন। এই পাঁচটা শব্দের উপর আস্থা রাখুন – সময় সব ক্ষত মুছে দেবে।
আমার কথায় আস্থা না থাকলে অন্তত একটা বছর অপেক্ষা করুন। সেদিন নিজেই হেসে হেসে বলবেন গত বছর আগের এই সব হাবিজাবি কষ্টের জন্য মরে গেলে আজকের এই সুন্দর সময়টা জীবনে আসার সুযোগই পেত না।
ভরসা রাখুন… আমার ভাল থাকার জন্য কোন কিছু না , কোন কেউ না ” আমার আল্লাহই যথেষ্ট”

সুরা ইনশিরাহ, আয়াত

Standard

যখন দুটি বিপরীত বাক্য একইসাথে নিজেকে প্রশ্ন করতে শুরু করে আমরা সাধারণত তখনই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ি। যেমন, চাকরী কি পাব ? নাকি পাব না ? সে কী আসবে ? নাকি আসবে না ? কাজটা কী হবে ? নাকি হবে না।

মনোবিজ্ঞানের ভাষায় অটোজেনিক ট্রেনিং বলে একটা ব্যাপার আছে। অর্থাৎ নিজেকে নিজে বোঝানো। আপনার খারাপ দিন গুলোতে আর কেউ আপনার সাথে থাকুক আর না থাকুক আপনাকে কিন্তু আপনার সাথে থাকতেই হবে। আপনার কাছ থেকে আপনার কোন মুক্তি নেই। গর্তে ঢুকে পড়লে যখন টেনে তুলবার মত কাউকে পাবেন না তখন নিজেই নিজেকে ধরে টেনে তুলতে হবে।
পৃথিবীর সব থেকে সেরা মনোবিজ্ঞানী এসেও আপনাকে ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি দিতে পারবে না, যদি না আপনি নিজে নিজেকে সাহায্য না করেন।

আমি একজন মানুষকে চিনি যিনি কথায় কথায় একটা কথা বলতেন, ”কোন কিছুতেই আমার কিছু আসে যায় না”। বাক্যটির ভেতরে একটা আশ্চর্য রকমের সন্মহোন শক্তি কিন্তু আছে।

যতবার এ বাক্যটি শুনেছি ততবার আমার স্নায়ু শ্রবণকেন্দ্র অবতচেতন মনের কাছে একটি তথ্যই পৌঁছে দিয়েছে, কোন কিছুতেই আমার কিছু আসে যায় না। আমার অবচেতন মন নিজ থেকেই প্রস্তুত হতে শুরু করেছে, যাই হোক না কেন কিছুই আসে যায় না।

একজন সফল মানুষ এবং হতাশাগ্রস্ত মানুষ তারা দুজন একই ধরনের সমস্যায় পড়লে কিন্তু একই রকম আচরণ করবে না।
একদল বড় সমস্যাকে ছোট করে দেখে এবং ছোট সমস্যাকে বড় হতে দেয় না। এবং অন্যদল ছোট সমস্যাকে বড় করে দেখে এবং বড় সমস্যায় ভেঙ্গে চিত হয়ে শুয়ে পড়ে।

একবার বিষণ্ণতা নিয়ে ভাবতে শুরু করলে সেটি চক্রের মত মধ্যমস্তিস্কে ঘুরতেই থাকবে। একই চিন্তা ঘুরে ফিরে বার বার আসতে শুরু করবে।

প্রবলেম কে ‘নো প্রবলেম’ বলতে শিখুন। উইলিয়াম ডি এলিস ‘ মেক ওয়ে ফর দ্যা নো – প্রবলেম গাই’ গ্রন্থে প্রমাণ করেছেন মাত্র দুটি শব্দ কীভাবে জীবনের সব বিষণ্ণতা থেকে মুক্তি দিতে পারে।

হয়ত এমন কিছু ঘটনা আপনার সাথে হয়েছে যেটা কোন ভাবেই ভুলতে পারছেন না। ঘুম ভাঙ্গার পর প্রথমেই এমন একটা কষ্টের কথা আপনার মনে পড়ে যেটা আপনাকে গতরাতে ঠিকভাবে ঘুমাতেই দেয়নি।

নিজের অসহায়ত্ব কাউকেই বোঝাতে পারছেন না। কিছু কিছু কষ্ট আছে; একান্ত আপনার জন্যই এসেছে। দুএকজন খামাখা আপনাকে সান্ত্বনা দেবার জন্য ভান করবে সে কষ্টটা আপনার মত করেই অনুভব করতে পারছে। আপনি ছাড়া কেউ এর রেশটাও বুঝবে না কোনদিন।
দুনিয়ার সবাই আপনার উপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেও , দুনিয়ার সব মনোবিজ্ঞানী আপনাকে শান্ত করতে না পারলেও ভরসা রাখুন তার প্রতি যিনি বলেছেন…

“মনে রেখো, প্রতিটি কষ্টের পরেই রয়েছে স্বস্তি। নি:সন্দেহে প্রতিটি কষ্টের পরেই আছে স্বস্তি!”
-সুরা ইনশিরাহ, আয়াত (৫-৬)

Human Mating Strategies

Standard

সম্পর্ক গুলোর একটা কমন সমস্যা, আপনি হয়ত বিপরীত লিঙ্গের কোন বন্ধুর সাথে কথা বলছেন, মেলা মেশা করছেন, আপনার কাছের মানুষটা এই সব মেনে নিতে পারছে না। সে হয়ত সারাক্ষণ অযথাই এমন সব ব্যাপার নিয়ে সন্দেহ করে যেগুলো হীনমন্যতা ছাড়া আর কিছুই না। আপনি তাকে যুক্তি দিয়ে বোঝাবার আগে আপনাকেও বুঝতে হবে, মানুষটা কিন্তু আপনাকে যুক্তি দিয়ে ভালোবাসে নি।

মনোবিজ্ঞানে ভালোবাসার সাথে ঈর্ষার একটি সম্পর্ক কিন্তু আছে। ‘ওথেলো সিনড্রম’ এর নাম শুনেছেন ? এই রোগের জন্ম ভালোবাসা এবং ঈর্ষা থেকে। ওথেলো নামে এক যুবক তার স্ত্রীকে এত বেশি ভালবাসত যে একসময় অযথা সন্দেহ করতে শুরু করে। একটা সন্দেহ থেকে মুক্তি পাবার পর শুরু হত আরেকটি সন্দেহের। এক সময় ওথেলোর হাতেই খুন হয় তার স্ত্রী।

আপনার কাছের মানুষটা আপনাকে বিপরীত লিঙ্গের কারো সাথে সহ্যই করতে পারে না। এ ব্যাপারটি যখন অস্বাভাবিক পর্যায় চলে যায় তখনই আপনি রাগে টলমল করতে করতে এমন একটা কিছু তাকে বলেন, যেটা শোনার পর তার মরে যাবার মত কষ্ট হয়। সে আসলে ‘প্যাথলজিক্যাল জেলাসি’ নামক এক ভালোবাসাময় রোগে আক্রান্ত।

আপনি তাকে মানসিক ভাবে অসুস্থ বলবার আগে আপনাকেও বুঝতে হবে মানুষটা কিন্তু আপনাকে ভালবাসতে বাসতেই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। যুক্তি, তর্ক দিয়ে কাকে হারাবেন আপনি ? এর চেয়ে দুটা রাত মন খুলে তার কথা গুলো শুনুন। বার বার শুনুন। তাকে বলতে দিন।

তার ভেতরে আপনাকে হারিয়ে ফেলার যে ভয়টা আছে সেটার শেকড় উপড়ে ফেলুন।

এবার একটু পেছনের কথা বলি। যৌন-ঈর্ষা কিংবা ‘স্কেসুয়াল জেলাসি’র বীজ আমাদের ভেতরে কীভাবে এসেছে ? লেখক অভিজিৎ রায় তার একটি গ্রন্থে এর একটি বিবর্তনীয় ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

আধুনিক ‘ডিএনএ’ টেস্ট আসার আরও অনেক আগেকার কথা।
প্রাচীনকালে পুরুষেরা ‘সেই তার সন্তানের পিতা কিনা’ এই ব্যাপার টি নিয়ে দ্বিধাগ্রস্তে ভুগতেন। এই দ্বিধাগ্রস্থতা কাটানোর জন্য তারা তাদের সঙ্গিনীকে চোখে চোখে রাখতেন। ঘর থেকে একা বের হতে দিতেন না। তাদের স্ত্রীকে বিপরীত লিঙ্গের কারো সাথে কথার বলার আগে তাদের কাছ থেকে পার্মিশন নিয়েই কথা বলতে হত। যেটা আমরা এখনো করে আসছি, বীজটির শেকড় কিন্তু শত বছরের পুরনো।

প্রশ্ন আসতে পারে তাহলে মেয়েরা কেন ঈর্ষান্বিত হয় ? মেয়েরা কিন্তু ছেলেদের মত ঈর্ষান্বিত হয় না। তাদের ঈর্ষান্বিত হবার ধরণ ভিন্ন।

ডেভিড বাস তার ‘Human Mating Strategies’ এ প্রমাণ করেছেন, ” একজন পুরুষ একজন নারীর সাথে যৌনসম্পর্ক করলে মেয়েরা যত না ঈর্ষান্বিত হয়, তার চেয়ে বেশি হয় তার স্বামী বা পার্টনার কারো সাথে রোমান্টিক কিংবা ‘ইমোশনাল’ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লে” পুরুষদের ক্ষেত্রে হয় ঠিক এর উল্টোটা। যেটা আমরা এখনো করে আসছি, বীজটির শেকড় কিন্তু শত বছরের পুরনো।

আপনার কাছের মানুষটা অযথাই যদি সন্দেহ করে, আপনাকে কারো সাথে মিশতে দিতে না চায় তাহলে তাকে যুক্তি তর্কে হারাতে গেলে সে হয়ত হারবে। একই সাথে তাকেও হারাতে হবে। সে অনেকটা ডিল্যুশনাল ডিসওর্ডারের ভেতরে আছে। একটু মন দিয়ে তার কথা শুনুন। আপনাকে ভালবাসতে বাসতেই বেচারা অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

তার ভেতরে আপনাকে হারিয়ে ফেলার যে ভয়টা আছে সেটার শেকড় উপড়ে ফেলুন। সে যখন বুঝবে আপনাকে সে নিজ থেকে চাইলেও হারাতে পারবে না তখন দেখবেন সে নিজেই এর একটা সুন্দর সমাধান বের করে ফেলেছে।

একটা পুরনো গল্প মনে পড়ল। 

Standard

একটা পুরনো গল্প মনে পড়ল।
একবার এক অনুষ্ঠানে একজন ব্যাক্তি উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশ্যে একটি কৌতুক বললেন এবং সবাই হাসতে লাগলেন। কিছুক্ষণ পর তিনি কৌতুকটি আবার বলতে শুরু করলেন এবং এবার মাত্র দু একজন হাসলেন। তারপর তিনি আবার প্রথম থেকে কৌতুকটি বলে শেষ করার পর দেখলেন কেউই আর হাসছে না !

বেশ কিছুক্ষণ চূপ থেকে তিনি বললেন, আপনারা একটা বিষয় নিয়ে কয়েকবার হাসতে পারেন না তাহলে কেন একটা অতীত মনে করে বার বার কাঁদেন ?

প্রত্যেকেরই কষ্ট আছে এবং প্রত্যেকেই তার নিজের কষ্টটাকে বড় করে দেখে। এটি একটি সহজাত প্রবৃত্তি। সিনেমায় পাশ্ববর্তী চরিত্রের মৃত্যুতে আপনার কিছু যায় না আসলেও নায়কের সামান্য কিছুতে আপনার চোখে পানি আসে।আপনি খুব সামান্য কিছু হলেও আপনার দৃষ্টি দিয়ে যে পৃথিবী আপনি দেখছেন, সেখানে আপনিই হলেন প্রধাণ চরিত্র, বাদবাকি সব পাশ্ববর্তী।

একারণেই আমরা আমাদের দুঃখ কষ্টকে অনেক বেশি বড় করে দেখি; একশ মানুষের মৃত্যু সংবাদের চাইতে নিজের একশ ডিগ্রী জ্বর আপনাকে কাতর করে ফেলে। একা একা ভাল থাকা যায় না, ভাল থাকতে হলে প্রথমেই আপনাকে এই আত্মকেন্দ্রিতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

আপনার অনেক দুঃখ কষ্ট থাকতেই পারে ; এর মানে এই না যে আপনাকে কষ্টে কষ্টে মরে যেতে হবে, এর মানে হল আপনাকে এই কষ্টটা সহ্য করতে হবে। একজন সফল এবং ব্যর্থ মানুষের বেসিক পার্থক্যটা খুব সামান্য।একদল কষ্ট পায় আরেকদল সহ্য করে।
আপনি যতবার অতীত নিয়ে চিন্তা করবেন ততবার আপনার স্মৃতি পুনর্গঠিত হবে। স্মৃতিকে প্রশ্রয় দিবেন না, একটা স্মৃতি প্রথমে একা আপনার দরজায় কড়া নাড়বে যেই আপনি দরজা খুলে দিবেন দেখবেন আরও অনেক স্মৃতি ভেতরে ঢুকে পড়েছে।

জীবনে ব্যর্থ হলে সেটার জন্য অপ্রত্যাশিত ঘটনাকে দায়ী করবেন না। সেই ঘটনায় আপনি কীরকম আচরণ করছেন সেটার দায় একমাত্র আপনার নিজের। অপ্রত্যাশিত ঘটনার উপর আপনার হাত নেই কিন্তু সেই ঘটনা আপনি কীভাবে মোকাবেলা করবেন সেটা আপনার নেতৃত্বেই হবে। চার্লস সুইনডোল বলেছিলেন জীবনে দশ ভাগ ঘটনা ঘটে আর বাকি ৯০ ভাগ সেই ঘটনায় আমরা নিজেদের জড়িয়ে ফেলি।

আপনার ভাল না থাকার সব চাইতে বড় কারণ হল আপনি নিজেকে ভাল রাখতে জানেন না। যা পান নি , যা হারিয়েছেন তা আপনার কাছে বড় হয়ে ধরা দিয়েছে। আর যা পেয়েছেন স্মৃতির খামখেয়ালিতে ভুলতে বসেছেন। জীবনের কাছে আপনি এমন একজন অকৃতজ্ঞ মানুষ যাকে আপনি অনেক কিছু দেবার পরেও সন্তুষ্টি করতে পারেন নি, কিন্তু যা দেন নি তা মনে করে করে সে কপাল চাপড়াবে।

এই যে পৃথিবীতে এত মানুষ না খেয়ে আধমরা হয়ে আছে, প্রতিবন্ধী হয়ে আছে, একটা দুর্ঘটনায় পরিবারের সব মানুষকে হারিয়ে বসেছে, শীতের খোলা আকাশের নিচে চাদরে মুখ ঢেকে কাঁদছে, নিজের বোনের ধর্ষিত হবার সংবাদ পত্রিকায় পড়ছে, ক্যান্সারে আক্রান্ত প্রিয় মুখের দিকে তাকিয়ে মৃত্যুর দিন গুনছে আপনি তাদের কেউ একজন না হয়েও যদি আপনি ভাল না থাকেন এর মানে হল; আপনি এমন একজন আত্মকেন্দ্রিক মানুষ যে নিজের ছোট ছোট কষ্ট সহ্য করতে পারে না। অনেক পেয়েও যেটা পান নি সেটা ভেবে ভেবে কপাল চাপড়ানো এক অকৃতজ্ঞ মানুষ আপনি।

এই সুখ তার সাত জনমের ভাগ্য !

Status

সাধারণত বিয়ের পর ছেলেরা টাইমলাইনে বিয়ের অনুষ্ঠানের দু একটা ছবি এবং কিছুদিন পর হানিমুনের আরও কটা ছবি আপলোড দিয়ে দায় সারলেও মেয়েরা প্রায় বছর জুড়ে দিনের পর দিন নতুন বিবাহ সুখী দাম্পত্য জীবনের আপডেট দিয়েই চলে। এর কারণ হল, এতদিন যেমনি সেমনি চললেও বিয়ের পর সংসারের নানান খরচ মেটাতে ছেলেরা বাইরের জগত নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে পড়ে। মেয়েরা যতই ব্যাস্ত থাকুক না কেন, মামী, খালা, বান্ধবীদের নিয়ে তাদের নিজস্ব একটা মেয়েলি সমাজ আছে, দেখা হলেই সেই সমাজ কেবল জানতে চায়, জামাই কেমন !!!

জামাই যেমনই হোক না কেন বছর জুড়ে বিরতিহীন রোমাঞ্চকর ছবি আপলোড দিয়ে দিয়ে তাদের বোঝাতে হয়, পরম আনন্দে আছে সে ! এই সুখ তার সাত জনমের ভাগ্য !

We will win

Status

যারা বলেছিল ‘ তোমাকে দিয়ে হবে না’ তাদের প্রতি বিরক্ত হবে না , এর মানে হল তুমি তোমার জায়গা থেকে এক চুল ও নড়বে না। তোমাকে হয়েই দেখাতে হবে।

যারা সব সময় বলে, তুমি পারবে না তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে, তাদের কথা ভুল প্রমাণ করে দেবার ইচ্ছেটাই তোমাকে পরিশ্রমী হতে সাহায্য করবে।

যারা সব সময় তোমার কাজ নিয়ে হাসি ঠাট্রা করে, তারা তোমার ফুয়েল। যখন তুমি নিজেই থেমে যাবে, তখন তাদের গা জ্বালা করা হাস্যরসের কথা ভাববে কিছুক্ষণ, তারপর আবার দৌড়াতে শুরু করবে।

যারা তোমাকে সুযোগ পেলেই তাচ্ছিল্য আর অপমান করতে ছাড়ে না তারাই তোমার সব চাইতে বড় শক্তি; দাঁতে দাঁত চেপে ধরে নীরবে একটা কিছু করার জেদ তো এখান থেকেই আসবে !

মায়া

Standard

একটা মানুষকে কতবার সুযোগ দেয়া যায় ?
এই প্রশ্নের উত্তর হল একবার। প্রথমবার সে ভুল করে; তাকে সেটা শুধরাবার সুযোগ দিতে হয়।

দ্বিতীয় বার মানুষটি একই কাজ করলে বুঝতে হবে; মানুষটা ভুল কিছু করেনি। তুমি ভুল করে একটা ভুল মানুষকে ভালোবেসেছিলে।

সবাই ভুল মানুষকে ফেলে চলে যেতে পারে না। মানুষটার প্রতি এক ধরনের মায়া জন্মে যায়। আমরা মনে করি মায়া খুব ঐশ্বরিক কিছু। ব্যাপারটা আসলে এরকম কিছু না।

একটা গাছে কিছুদিন পানি দিলে সেই গাছের প্রতি একটা স্নেহ জন্ম নেয়। একটা নেড়ি কুত্তাকে রাস্তায় দু দিন বন খাওয়ালেও মায়া জন্মে যায়।

যে ডাকাত স্বর্ণ লুট করতে গিয়ে সন্তানের হাত পা বেঁধে মা’কে ধর্ষণ করে সেই ডাকাতের জন্যও কেউ কেউ ঝড়ের রাতে খিচুরি পাক করে।

যে ছেলেটি ট্রেনের টয়লেটে বসে পাশের সীটের কোন নারীর কথা ভেবে মাস্টারবেশন করে তার জন্যও কেউ না কেউ পথ চেয়ে থাকে।

মায়া’কে প্রশ্রয় দিতে নেই। মায়া সংক্রামক। মায়াকে মায়া করলে মায়া বাড়তেই থাকবে। ছুড়ে ফেললে দেখবে একদিন সব কিছু ঠিকঠাক হয়ে গেছে। আজকের কষ্টটার কথা মনে পড়লে দেখবে সেদিন একটা হাসি পাবে।

মানুষ নিজের ইমোশনের কাছে হেরে যায়। সে ভুল মানুষটাকে ঠিক বানাতে চায়। সে কম্প্রোমাইস করতে চায়।
সে কিছুটা কষ্ট সহ্য করে হলেও মানুষটার সাথে থাকতে চায়। সে তার প্রেমকে ঐশ্বরিক কিছু মনে করে এই ভুল মানুষটির সাথে থেকে যাবার সিদ্ধান্ত নেয়। এখানেই সে সব থেকে বড় ভুলটি করে।

দাবা খেলায় দেখবে বোকারা একটি চাল দেবার পর পরেই বুঝতে পারে সে ভুল চাল দিয়ে ফেলেছে। সে চালটি ফিরিয়ে নিয়ে নতুন করে চাল দেবার সুযোগ পায় না।

লাইফটা দাবা খেলা না। এক বোর্ডে হারলেই নতুন করে আবার বোর্ড সাজানোর কোন সুযোগ নেই।

আজকে তোমার হাতে যে সুযোগটি আছে আগামীকাল সেই সুযোগটি থাকবে না। তখন থেমে থেমে কাঁদতে হবে। চোখ মুছে বিছানায় শোবার পর দেখবে ঢেউ এর মত বুকের ভেতর মোচড় দিচ্ছে।

সেদিন মানুষটার কাছ থেকে পালাতে চাইলেও জীবন তোমাকে পালাতে দিবে না।

মানুষ আসবে; যাবে। যার দিকে তাকিয়ে দুটা রাত সময় দিবে তার জন্যই একটা মায়া চলে আসবে। মায়া খুব তুচ্ছ জিনিস। মায়াময় কিছু না; তোমাকে শুধু একটা শুদ্ধ মানুষ খুঁজে নিতে হবে।

জীবন – ২

Standard

আমি দেখলাম একটা ছোট কুকুরের বাচ্চার মাথা থেতলে গেছে। গলা থেকে রক্ত গড়িয়ে গড়িয়ে রাস্তার এক পাশের গর্তে একটা ছোট পুকুর তৈরি হল। কুকুরটা যখন পেছনের একটা পা একটু করে নাড়াল তখন আমার কষ্টটা বেড়ে গেল; আমি বুঝলাম তার মৃত্যু যন্ত্রণা এখনো শেষ হয় নি।

আমি মুখ থেকে ওহহ! জাতীয় দীর্ঘশ্বাস ফেলে একটা চায়ের দোকানে গিয়ে বসলাম। কুকুরটার কথা যখন আমি প্রায় ভুলেই গেছি তখন দেখলাম তিনজন যুবক তাকে কোলে নিয়ে একটা গাড়ির পেছনের সীটে বসাল। তারা একটা প্রায় মৃত বেওয়ারিশ কুকুরকে পশু হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে এইদৃশ্যটা অনেকটা আমার শার্টের কলার ধরে বুঝিয়ে দিয়েছে, মুখ দিয়ে ওহহ শব্দ করে কেটে পড়া কতটা হৃদয়হীনতার নমুনা হতে পারে।

একবার এক তুফান বৃষ্টির রাতে আমি মেডিক্যালের সামনের রাস্তায় এক বাচ্চা শিশুকে কাঁদতে দেখে দাড়িয়ে গেলাম। শিশুটির পাশে তার মা ঘুমিয়ে আছে দেখে আমার উৎকণ্ঠা আরও বেড়ে গেল। কেন মানুষটা এই ঝড়ের রাতে তার শিশুকে নিয়ে অন্তত একটা সানসেডের নিচে আশ্রয় নিল না; এইসব ভেবে ভেবে আমার কাছে তার জননীকে পৃথিবীর সব থেকে হৃদয়হীন মা মনে হল।

ঝড় যখন বেড়েই চলছিল, আশে পাশের ফার্মেসী গুলো যখন সাটার লাগাতে শুরু করল, বাচ্চাটি যখন কাঁদতে কাঁদতে শীতে কাঁপার শক্তিটাও হারিয়ে ফেলছিল এবং তখনো তার মা’কে সাড়াশব্দহীন দেখার এক পর্যায় বুঝলাম আমি আসলে দাড়িয়ে দাড়িয়ে পৃথিবীর ইতিহাসের সব থেকে হৃদয় বিদারক দৃশ্যটা দেখছি।

একটা সহায়সম্বলহীন মা ঝড়ের রাতে মেডিক্যালের ফুটপাতে আড়াই তিন বছরের বছরের বাচ্চাকে ফেলে দিয়ে শীতে কাঁপতে কাঁপতে নিঃশব্দে মরে গেল !!! এর চেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য পৃথিবীতে আর কী হতে পারে ??

শুরু করেছিলাম একটা বেওয়ারিশ কুকুরের বাচ্চাকে নিয়ে। শেষ করব বেওয়ারিশ মানুষের বাচ্চার কথা লিখে।

ভোরে যখন বাচ্চাটাকে নিয়ে আমার মত কিছু আমজনতা মেডিকেল হাসপাতালে গেল তখন ডাক্তারদের ব্যবহার আমাকে রীতিমত আতংকিত করেছিল। তারা ফর্ম দিল। পুলিশ ভেরিফিকেশন হবে। কাগজপত্রের ব্যাপার। বেওয়ারিশ বাচ্চার দায়িত্ব কে নিবে? তখন সেখানে ইন্টার্নি করে এরকম একজন ডাক্তার আমাকে বেশ কিছু সত্য বুঝিয়ে দিল। একটা বেওয়ারিশ বাচ্চা রাস্তা থেকে তুলে হাসপাতালে এনে দিয়ে নিজেকে মনিষী ভাবার কিছু নেই। আপনি বাচ্চাটার দায়িত্ব না নিলে এই বাচ্চাটির দায়িত্ব কে নিবে ? ডাক্তার ? ডাক্তার কতজন বাচ্চার দায়িত্ব নিবে ?

আমি এবং আমরা যখন মুখ দিয়ে ওহহ জাতীয় শব্দ করে কেটে পড়ার পায়চারা করছিলাম ঠিক তখন হাসপাতালের ব্যাডের প্রায় বয়স্ক এক মহিলা এই বাচ্চাটির সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে আমাদের শার্টের কলার ধরে বুঝিয়ে দিল, মুখ দিয়ে ওহহ জাতীয় দীর্ঘশ্বাস মানবতার না কাপুরুষতার সিম্বল।

মানুষ আসলে সামাজিক জীব না। মানুষ ব্যক্তিগত জীব। টেলিভিশনে একটা লঞ্চ ডুবে যাবার দৃশ্য দেখে আমরা মুখ দিয়ে ওহহ জাতীয় শব্দ করে ঠিকই অন্য চ্যানেলে নাটক সিনেমা দেখতে চলে যাই। একশজন মানুষের মৃত্যু সংবাদের চাইতে নিজের একশ ডিগ্রী জ্বর মানুষকে বেশি ভাবায়।

তবু পৃথিবীটা এত আশ্চর্য রকমের সুন্দর কেন জানো ? এই মানুষ গুলোর বিচরণ সব জায়গাতেই আছে। বাসে নিজের দাদার বয়সী কাউকে দাড়িয়ে থাকতে দেখে তুমি যখন সীটে বসে হেড ফোন লাগিয়ে রক মেটাল গান শুনছো তখন দেখবে কেউ একজন সীট ছেড়ে তোমার বিবেগের কলার চেপে ধরে সামনের মোড়ে নেমে চলে গেছে।

ভোরের আযানের শব্দে তুমি যখন ভলিয়ম কমিয়ে মুঠো ফোনে যৌন আবেদন করছিলে, জানালা খুললেই দেখবে কত গুলো মানুষ ঠিকই আছে, হাড় কাঁপা শীতে কাঁপতে কাঁপতে মসজিদের দিকে এগোচ্ছে। ভাল করে তাকালেই দেখবেই শার্টের কলার তোমার কুচকে গেছে… ! একদম কুচকে দলা মুচকে চেপ্টে থেতলে গেছে।

এখন তোরা মানুষ হও

Standard

এই শীতে যে মানুষটা সারা রাত ফোনে কথা বলে এক ধরনের ফ্যান্টাসীতে চলে যাচ্ছে,
আগামী শীতেই সে মানুষটা ফোন ওয়েটিং পেয়ে হাত কেটে ফেলবে।

এ বছর যত মানুষ ধানমন্ডি লেকে সিমেন্টের চেয়ারে বসে প্রেম করছে… রেস্তোরাঁয় বসে চুমো খাচ্ছে… দু দিন দেখা না হবার কারণে যে বাবুটা হেড ফোন লাগিয়ে ডেনভার শুনছে ; সেই মানুষ গুলোই পরের বছর সিমেন্টের চেয়ারে বসে ; একি কথা বলবে অন্য কাউকে নিয়ে।

সুপারি গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে আঙুল বাকিয়ে যেভাবে তোমাকে তারা গুনে দিত, ঠিক সেই কাজটিই করবে অন্য কারো সাথে। যে গানটা শুনিয়ে তোমাকে কাঁদিয়ে দিত ; সেই গানটাই হাতিয়ার হিসেবে সে বার বার ব্যাবহার করবে।

যে তোমাকে ঠকাতে চাইবে তুমি যাই করো না কেন ;সে তোমাকে ঠকাবেই। এখন ব্যাপারটা তোমার হাতে। বিশ্বাস করে ঠকতে চাও নাকি অবিশ্বাস করে???

বিশ্বাস করে ঠকলে তুমি কষ্ট পাবে আর অবিশ্বাস করে ঠকলে কেবলই মনে হবে, হয়ত তাকে বিশ্বাস করলে সে এরকম বিশ্বাস ভাঙ্গত না !

এই শীতে আবেগ জড়িত কণ্ঠে ‘আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারব না’ বলা মানুষটাই দেখবে আগামী শীতে দিব্যি বেঁচে থাকবে অন্যকাউকে নিয়ে। একজীবন একসাথে থাকার পরিকল্পনা করা মানুষ গুলো শেষমেশ দুটা শীতও একসাথে থাকতে পারে না। এতটা জোর দিয়ে বলছি কেননা, পরিসংখ্যান বলছে বাংলাদেশে মাত্র ১৮ ভাগ মানুষ প্রেমে সফল হয়।

আজ যখন তুমি তার হাতের মুঠো শক্ত করে ধরে বসে থাকবে তখন আমার এই লেখা তোমার কাছে ভ্রান্ত মনে হতে পারে; এর একটা কারণ হল – যখন দুজন মানুষ চোখের দিকে তাকায়, হাতর মুঠো শক্ত করে ধরে বসে থাকে তখন কিছু হরমোন অনেক বেশি পরিমাণে নিঃসৃত হবার কারণে প্রেমিক প্রেমিকাদের হিতাহিত জ্ঞান শুন্য করে দেয়।

মানুষ যখন দূরে চলে যায় সম্পর্ক গুলোর কী হয় তখন ? মানুষ হারায়… সম্পর্কও কী হারায় ?

পৃথিবীতে কোন মানুষই আসলে হারায় না। কোথাও না কোথাও ঠিকই তো আছে; শুধু এক সময় আর খুঁজে পাওয়া যায় না !!

রাতভর স্বপ্ন

Standard

এই যে সকাল হল। রাতভর স্বপ্ন দেখা মানুষ গুলো চোখ মুখ ধুয়েই এক একজন মিলিটারি হতে শুরু করবে। সারারাত যে রাস্তার মাঝখানটায় দাড়িয়ে নাইট গার্ড বাঁশি বাজালেন একটু পর সেখানেটায় ট্রাফিক সার্জেন্ট এসে সিগন্যাল দিবেন, ছোট খাটো জ্যাম লেগে যাবে। বাচ্চারা ঘুম থেকে উঠেই বিশ্ব জয় করতে পাঠশালার উদ্দেশ্যে বের হয়ে পড়েছে;

শহরের সব ঘুষখোরেরা একটু পরই নাস্তা খেতে খেতে সন্তানকে দু একটা উপদেশ দিয়ে ঘুষ খেতে বের হয়ে পড়বে। হতাশা যন্ত্রণায় যে বেকার ছোকরা রাতে এক ফোটাও ঘুমাতে পারেনি সেও হয়ত বের হয়ে পড়েছে ইন্টার্ভিউ দিতে। দু কদম গিয়ে আবার হয়ত বাবার সামনে মাথা নিচু করে দাড়াবে, যাবার ভাড়াটা যে নেই।

সকাল হয়ে গেল। নতুন নতুন প্রেম করা ছেলে মেয়ে গুলো সেই যে রাত থেকে কথা শুরু করেছে ; মাত্র ফোন রেখেছে। কেউ হয়ত সারারাত কাউকে ওয়েটিং এ পেয়ে কষ্টের গান গুলো প্লে লিস্টে দিয়ে বাতি বন্ধ না করেই আধ শোয়া অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়েছে।

সারারাত যন্ত্রণায় ছটফট করা রোগীর জীবনে এটাই শেষ সকাল। আদরের মেয়েকে চুমো খেয়ে যে পুলিশ অফিসার বাসা থেকে বের হবেন, তিনিই ঘণ্টা দুয়েক পর চাঁদা না পেয়ে ফুটপাতের তরকারী ওয়ালাকে লাথি মেরে বিনা মূল্যে দুটা ফুলকপি পলিথিনে করে বাসায় নিয়ে আসবেন।
আজ সকালে ঘুম থেকে উঠার পর পরই কারো মনে পড়ে যাবে গতকাল রাতে বাবা মারা গেছে ! কিছুক্ষণ পুরো ব্যাপারটাকে স্বপ্ন ভাবার চেষ্টা করে আবার হয়ত ঘুমাবার চেষ্টা করবে ! নিজেকে বোঝাবে – এবার হয়ত ঘুম থেকে উঠে দেখবে , বাবা আসলে মরে নি !!

যে শুয়োরের বাচ্চাটা আজ মাগরিবের নামাযের পর কাউকে ধর্ষণ করবে সে হয়ত এখনো কাঁথা গায়ে দিয়ে ঘুমোচ্ছে। টেবিলে খাবার সাজিয়ে তার মা কপালে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে- বেলা হয়েছে; ঘুম থেকে উঠো !