Eid Mubarak 2017

Standard

আমাদের এইখানে কালকে ঈদ। দেশের বাইরে এটা আমার টানা ৩ নম্বর ঈদ। দেশে লাস্ট ঈদ করছিলাম ২০১৫ সালে। ঈদের মধ্যে আমি বাসায় নাই, এই ব্যাপারে আমার কাছের মানুষদের যেমন অনুভূতি হয়,

আম্মু – একটা শার্ট পছন্দ করতে তিন দিন মার্কেটে যাওয়া লাগে। দোকানদাররাও এখন শান্তিতে আছে!
আব্বা- সকালে টাকা দাও, দুপুরে টাকা দাও, বিকালে আবার দাও। এখন আর সেই ভেজাল নাই।
প্রেমিকা- আমার অবস্থা বিএনপির চেয়েও খারাপ। ঈদের পরও কিছুই হবে না (!)
আত্মীয়স্বজন- একজনের রান্না কম রানলেও চলে 😉
বন্ধুসমাজ- তোর আসা লাগবে না। খালি বিলটা পাঠায়ে দে 🐸
তবে,

এই এত এত মানুষদের একটা সত্যিকারের অনুভূতি আছে। সেইটা ভালোবাসা।
আমি নাই, তবুও আমাকে তাদের মনে পড়তেছে… আমাকে খুব মিস করতেছে… আমাকে ছাড়া ঈদ করতে খারাপ লাগতেছে… এই অনুভূতিটাই আমার কাছে ঈদ।
ঈদ মানে, আমি দেশে নাই। থাকলে হয়ত তেমন কিছুই হইত না। তবুও মনে হয় আমি থাকলে উড়ায়ে দিতাম, উৎসব কইরা ফাটায়ে দিতাম।
দেশের, দেশের বাইরের সবার ঈদ ভালো কাটুক।

ঈদ মুবারক বাংলাদেশ

মে !

Standard

ঢাকা এয়ারপোর্টের ইমিগ্রেশন ডেস্কে যাওয়ার আগে একটা ৫ ইঞ্চি সাইজের ইমিগ্রেশন ফর্মে সবাইকে পারসোনাল ডিটেলস লিখতে হয়। বোর্ডিং পাস নেয়ার কাউন্টার আর ইমিগ্রেশন ডেস্কের মাঝামাঝি জায়গায় একটা বড় পিলারের পাশের এক্সটেন্ডেড এরিয়ায় সেই ফর্ম রাখা থাকে। সবাই সেখানে দাঁড়িয়ে সেই ফর্ম ফিলআপ করে। সেখানে গেলেই সস্তা কাপর পরা প্রচুর মানুষের ভিড় দেখা যায় যারা ফর্মে নিজের নাম ঠিকানা লিখতে পারে না। লিখতে জানা কেউ একজন যখন নিজেরটা লিখতে শুরু করে তারা তখন এসে অনুরোধ করে, “ভাই আমারটা একটু লেইখা দেন।”

প্রবাসী শ্রমিকরাই হল মুক্তিযোদ্ধাদের পর শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, সময়ের সর্বশ্রেষ্ঠ কবি। “ভাই আমারটা একটু লেইখা দেন”… এটাই হল সময়ের সেরা বাংলা কবিতা।

আজকের শ্রমিক দিবসে, ইমিগ্রেশন পেপারে নিজের নাম ঠিকানা লিখতে না পারা সেইসব প্রবাসী শ্রমিকদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। যাদের টাকায় দেশ চলে, যাদের ঘামের উপর মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ।

সালাম নিবেন ভাইয়েরা,
আপনাদেরকে শ্রমিক দিবসের শুভেচ্ছা।