এই বিদেশ ,নতুন দেশ , বিমান এগুলি একটা আবেগ , ভালবাসা, স্বপ্ন !

Standard
জীবন তখনই আমার সুন্দর ছিল যখন বাংলাদেশ এয়ারপোর্ট এর পাশ দিয়ে গেলে নিজেকে অনেক বড় মাপের মনে হইত।
বিমান , এয়ারপোর্ট আমার কাছে কি না কি জানি একটা ব্যাপার। আগে বিমান নিয়ে কত চিন্তা ছিল।
 
আসলে বিমান উড়ে ক্যামনে ? বিমান এর ভিতরে যে ওয়াশ-রুম আছে ওইটায় ক্যামনে মানুষ কি জানি করে ? সব কি অটো কাজ করে নাকি। বিমান এর ভিতরের মানুষ গুলা কেমন, অনেক টাকার মালিক মনে হয় ?
বিমান যে চলায় রাত কইরা ক্যামনে চিনে এক দেশ থেকে আরেক দেশ ?
 
একদিন নিজেই চলে গেলাম বিমান বন্দর কিন্তু কিছুই বের করতে পারলাম না।
 
তারপর শুরু হইলো কলেজ জীবন , খারাপ ছাত্র ছিলাম তাই আমার আবার রাতের বেলাও ক্লাস নিত। কলেজ এর ৫ তলা থেকে ঢাকার এয়ারপোর্ট দেখা যাইত। তখন রাত ৯.৩০ এর দিকে এমিরাত এর বিমান বাংলাদেশ থেকে উড়ে যাইত। আর ঐটা দেখে আমি আর আমার পাশে বসা দাদা চিন্তা করতাম আমি যেকোনো দেশ আর ঐ দাদা আমেরিকা যাবেন। কিন্তু কপাল আমি দেশ এ নাই, কিন্তু ঐ দাদা দেশ এই আছেন, সমবেদনা রইল দাদার জন্য, আপনার আমেরিকার ইচ্ছা সফল হোক।
 
আমি যখন ২য় বারের মত এয়ারপোর্ট এর ভিতরে যাই, তখনই আমার বিমান, বিদেশ এগুলির ভূত মাথায় আসে।
 
২য় বারের মত এয়ারপোর্ট এ আসলাম, কাহিনী কি , বাচ্চা যাবে ইটালি আমি আসছি শেষ দেখা দিতে। বাংলাদেশ এর রাস্তার জ্যাম এর কারণে আমার অনেক দেরি হয়ে গেল। কোন রাস্তা নাই, দেখা করার। কিন্তু কোন মাধ্যমে আমি ইম্মিগ্রেসন এর নিরাপত্তা কর্মী যে দরজা ব্যবহার করে, ঐ দরজায় দেখা করলাম। দরজার ব্যাপার তা এমন ছিল একটা রো এর ২ দিকে ২ জন । কথা বলি, আদর করি। শেষ সময় পিছন ঘুড়ে টাটা দিয়ে চলে আসলাম।
 
তারপর থেকেই আমার চিন্তা আমার এই এয়ারপোর্ট এর ভিতরে কি আছে ঐটাই দেখার, বিদেশ কাকে বলে, সাথে আমার সব জয় করতেই হবে।
 
জীবন এ প্রথম যে দিন বিমান এ উঠবো আরেক দেশ এ যাব, আমি এয়ারপোর্ট এর ভিতরে যাইয়া তো পুরাই মাথা নষ্ট।
 
বিমান এর টিকেট নিয়ে বোর্ডিং – পাস নিলাম, এখন আমার কি করতে হবে বুজতেছি না। ২০ মিনিট বইসা রইলাম। তারপর মাথায় আসলো, এই জায়গায় তো সবায় আসতে পারে , এখন ভিতরে যেতে হবে রে ভাই। জীবন এ প্রথম ইম্মিগ্রেসন ক্রস করলাম। ভিতরে তো কঠিন ব্যাপার। মা কসম আমি দেশ এ থাকতে এমন এয়ারপোর্ট এর ভিতরে এমন থাকতে পাড়ে আমি চিন্তা ও করি নাই। যাই হোক শেষ পর্যন্ত বিমান এ উঠলাম, আরে কি যে মজা , বিমান উড়ে, বিমান এর জানালা দিয়ে আমি ঢাকা শহর দেখলাম। আবার দেখা বিমান এর ভিতরে আমার কান এর মধ্যে কেমন জানি লাগে।
 
ছোট যাত্রা ছিল তাই বুজতে পারি নাই, আসল ব্যাপার গুলা।
তারপর ইউরোপ যাব এখন নাকি আমার ২ তা বিমান পরিবর্তন করতে হবে। দেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে যাব। ব্যাপার গুলাই যেন কেমন।
 
ইউরোপ যাব তখন আর বাংলাদেশ এয়ারপোর্ট কে কিছুই মনে হয় নাই, আমি সবই জানি ভাবের সাথে উঠে গেলাম, বিমান এ। অনেক বড় বিমান, মধ্যপ্রাচ্য এর দেশ এ গেল, নতুন এয়ারপোর্ট , নতুন মানুষ, নতুন আবহাওয়া ব্যাপার গুলাই অন্য রকম।
 
তারপর আবার বিমান ধরে , শেষ আমি ইউরোপ এসে পড়লাম। আবার নতুন এয়ারপোর্ট , সব সাদা মানুষ , বাইরে মাইনাস ৭ , এমন বরফ ঠাণ্ডা, নতুন সকাল নতুন দেশ।
 
এই বিদেশ ,নতুন দেশ , বিমান এগুলি একটা আবেগ , ভালবাসা, স্বপ্ন !

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s