Human Mating Strategies

সম্পর্ক গুলোর একটা কমন সমস্যা, আপনি হয়ত বিপরীত লিঙ্গের কোন বন্ধুর সাথে কথা বলছেন, মেলা মেশা করছেন, আপনার কাছের মানুষটা এই সব মেনে নিতে পারছে না। সে হয়ত সারাক্ষণ অযথাই এমন সব ব্যাপার নিয়ে সন্দেহ করে যেগুলো হীনমন্যতা ছাড়া আর কিছুই না। আপনি তাকে যুক্তি দিয়ে বোঝাবার আগে আপনাকেও বুঝতে হবে, মানুষটা কিন্তু আপনাকে যুক্তি দিয়ে ভালোবাসে নি।

মনোবিজ্ঞানে ভালোবাসার সাথে ঈর্ষার একটি সম্পর্ক কিন্তু আছে। ‘ওথেলো সিনড্রম’ এর নাম শুনেছেন ? এই রোগের জন্ম ভালোবাসা এবং ঈর্ষা থেকে। ওথেলো নামে এক যুবক তার স্ত্রীকে এত বেশি ভালবাসত যে একসময় অযথা সন্দেহ করতে শুরু করে। একটা সন্দেহ থেকে মুক্তি পাবার পর শুরু হত আরেকটি সন্দেহের। এক সময় ওথেলোর হাতেই খুন হয় তার স্ত্রী।

আপনার কাছের মানুষটা আপনাকে বিপরীত লিঙ্গের কারো সাথে সহ্যই করতে পারে না। এ ব্যাপারটি যখন অস্বাভাবিক পর্যায় চলে যায় তখনই আপনি রাগে টলমল করতে করতে এমন একটা কিছু তাকে বলেন, যেটা শোনার পর তার মরে যাবার মত কষ্ট হয়। সে আসলে ‘প্যাথলজিক্যাল জেলাসি’ নামক এক ভালোবাসাময় রোগে আক্রান্ত।

আপনি তাকে মানসিক ভাবে অসুস্থ বলবার আগে আপনাকেও বুঝতে হবে মানুষটা কিন্তু আপনাকে ভালবাসতে বাসতেই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। যুক্তি, তর্ক দিয়ে কাকে হারাবেন আপনি ? এর চেয়ে দুটা রাত মন খুলে তার কথা গুলো শুনুন। বার বার শুনুন। তাকে বলতে দিন।

তার ভেতরে আপনাকে হারিয়ে ফেলার যে ভয়টা আছে সেটার শেকড় উপড়ে ফেলুন।

এবার একটু পেছনের কথা বলি। যৌন-ঈর্ষা কিংবা ‘স্কেসুয়াল জেলাসি’র বীজ আমাদের ভেতরে কীভাবে এসেছে ? লেখক অভিজিৎ রায় তার একটি গ্রন্থে এর একটি বিবর্তনীয় ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

আধুনিক ‘ডিএনএ’ টেস্ট আসার আরও অনেক আগেকার কথা।
প্রাচীনকালে পুরুষেরা ‘সেই তার সন্তানের পিতা কিনা’ এই ব্যাপার টি নিয়ে দ্বিধাগ্রস্তে ভুগতেন। এই দ্বিধাগ্রস্থতা কাটানোর জন্য তারা তাদের সঙ্গিনীকে চোখে চোখে রাখতেন। ঘর থেকে একা বের হতে দিতেন না। তাদের স্ত্রীকে বিপরীত লিঙ্গের কারো সাথে কথার বলার আগে তাদের কাছ থেকে পার্মিশন নিয়েই কথা বলতে হত। যেটা আমরা এখনো করে আসছি, বীজটির শেকড় কিন্তু শত বছরের পুরনো।

প্রশ্ন আসতে পারে তাহলে মেয়েরা কেন ঈর্ষান্বিত হয় ? মেয়েরা কিন্তু ছেলেদের মত ঈর্ষান্বিত হয় না। তাদের ঈর্ষান্বিত হবার ধরণ ভিন্ন।

ডেভিড বাস তার ‘Human Mating Strategies’ এ প্রমাণ করেছেন, ” একজন পুরুষ একজন নারীর সাথে যৌনসম্পর্ক করলে মেয়েরা যত না ঈর্ষান্বিত হয়, তার চেয়ে বেশি হয় তার স্বামী বা পার্টনার কারো সাথে রোমান্টিক কিংবা ‘ইমোশনাল’ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লে” পুরুষদের ক্ষেত্রে হয় ঠিক এর উল্টোটা। যেটা আমরা এখনো করে আসছি, বীজটির শেকড় কিন্তু শত বছরের পুরনো।

আপনার কাছের মানুষটা অযথাই যদি সন্দেহ করে, আপনাকে কারো সাথে মিশতে দিতে না চায় তাহলে তাকে যুক্তি তর্কে হারাতে গেলে সে হয়ত হারবে। একই সাথে তাকেও হারাতে হবে। সে অনেকটা ডিল্যুশনাল ডিসওর্ডারের ভেতরে আছে। একটু মন দিয়ে তার কথা শুনুন। আপনাকে ভালবাসতে বাসতেই বেচারা অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

তার ভেতরে আপনাকে হারিয়ে ফেলার যে ভয়টা আছে সেটার শেকড় উপড়ে ফেলুন। সে যখন বুঝবে আপনাকে সে নিজ থেকে চাইলেও হারাতে পারবে না তখন দেখবেন সে নিজেই এর একটা সুন্দর সমাধান বের করে ফেলেছে।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s