Hope For Life

আমি আমার জীবনে এরকম উদাহারণ অনেকবার দেখেছি যে একই ঘটনায় একজন মানুষ হাল ছেড়ে দিয়েছে অন্যজন নতুন উদ্যমে ঘুরে দাড়িয়েছে। পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে কেউ গলায় ফাঁস লাগায় আবার কেউ পরের বছরে বোর্ডে প্রথম দশজনের ভেতরে জায়গা করে নেয়।
একই ঘটনা একই ব্যার্থতার দু রকম ফলাফল ! এ দুদল মানুষের ভেতরে মনোস্তাত্বিক পার্থক্যটা কোথায় ?

একজন সফল মানুষকে এনালাইসিস করলে দেখা যাবে সে সফল হয়েছে কেননা সে জীবনে বহুবার ব্যার্থ হয়েছে এবং তাস্বত্বেও সে চেষ্টা থামিয়ে দেয়নি। তার সফল হবার গৌরবমাখা ইতিহাস তোমার না জানলেও চলবে। তোমাকে জানতে হবে সফল হবার আগে সে কতবার ব্যার্থ হয়েছে , এক একবার ব্যার্থ হবার পর পুরো দুনিয়ার বিপরীতে গিয়ে কীভাবে সে ঘুরে দাড়িয়েছে।

কোন কাজ অনেক চেষ্টা করেও ঠিক ভাবে করতে না পারলে আমরা ভাবি কাজটা আমাকে দিয়ে হবে না। আমাদের অবচেতন মন এরকম একটি সুন্দর যুক্তি দিয়ে আমাদেরকে সেখান থেকে পালাবার একটি যৌক্তিক পথ তৈরি করে দেয়। তুমি যদি ব্যার্থতা থেকে পালিয়ে বাঁচতে চাও তাহলেও কিন্তু তোমাকে ব্যার্থ হয়েই ব্যার্থতা থেকে পালাতে হবে। এক্ষেত্রে এডিসনের একটি উক্তি আমাকে অনেকবার চিন্তা করতে সাহায্য করেছে।
“ আমি বলবনা আমি এক হাজার বার হেরেছি, আমি বলব যে আমি হারার এক হাজার টি কারণ বের করেছি॥ ”

বিষণ্ণতা এবং হতাশার মূলে রয়েছে আমাদের প্রত্যাশা। মানুষর একটি সহ সহজাত প্রবৃত্তি হল সে সব সময় সুখের সন্ধান করে। ফ্রয়েড মনের এ অংশটির নাম দিয়েছে ‘ অদম (id)’ । মনের এই অংশটি ‘ ইচ্ছে ’ গুলোকে পূরণ করার জন্য মনের উপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকে এবং এই চাপটি ঠিকভাবে নিতে না পারলেই আমরা একসময় হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ি।

প্রত্যাশা কিংবা ‘সুখের সন্ধান’ সব সময় হতাশার কারণ হয় তা কিন্তু না। যারা সফল তারা ‘ অদম’ মনের এই সব ‘ইচ্ছে গুলো’ কে নিয়ন্ত্রণ করতে জানে। বাস্তবা বুঝে ধৈর্য ধরতে জানে। এমনকি সেই ইচ্ছে পূরণ না হলেও সেটি মেনে নেয়ার জন্য তারা মানসিক ভাবে প্রস্তুত থাকে। ফ্রয়েড মনের এই অংশটির নাম দিয়েছে ‘ অহম ( Ego) ‘

লেখাটি শুরু করেছিলাম, একই ব্যার্থতার দু রকম ফলাফল ! এ দুদল মানুষের ভেতরে মনোস্তাত্বিক পার্থক্যটা কোথায় ? পার্থক্যটা হল একদল তার প্রত্যাশা কাছে ‘ অদম (id)’ আত্মসমর্পণ করে এবং অন্যদল ইচ্ছেকে ‘ অহম ( Ego) ‘ ধৈর্যের সাথে নিয়ন্ত্রণ করতে জানে।

আমাদের হতাশার আরেকটি বড় কারণ হল, আমরা সব সময় নিজেদেরকে বোঝাই- দুঃখ কষ্ট , সমস্যা , ঝামেলা এসব থেকে দূরে থাকতে হবে। আমি এসব সহ্য করতে পারব না। অথচ এসব কিছুই একটি স্বাভাবিক জীবনের অংশ।

মনোচিকিৎসক ডাঃ তাজুল ইসলামের একটি বই পড়ছিলাম। বইটির ভেতরের একটি চাপ্টারের শিরোনাম ছিল ‘ জীবনের সমস্ত উদ্বেগ, টেনশন , হতাশা, অপমান , ব্যার্থ হওয়া থেকে স্থায়ী ভাবে বৈজ্ঞানিক ভাবে মুক্তির উপায়”

শিরোনাম দেখেই চমকে উঠে পড়তে শুরু করলাম। নিচের অংশটি হুবহু তুলে দিলাম।

” পাঠক, এই বই যারা পড়ছেন তাদের অনেকেই এই আশা নিয়ে পড়ছেন যাতে এই বইএর তথ্য , তত্ব, ও কৌশল গুলো মেনে নিয়ে তারা এমন জীবন গড়বেন যে জীবনে কোন উদ্বেগ, টেনশন , হতাশা, অপমান , ব্যার্থতা, দুর্ভাবনা থাকবে না। কিন্তু সেই জীবন কী আসলেই সুখের ? ”

একশ ভাগ সুখের জীবনে আপনি কখনোই সুখে থাকতে পারবেন না কেননা সেই জীবন স্বাভাবিক নয়, সমৃদ্ধ নয়, উন্নত নয়, উপভোগ্য নয়।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s