অতীত

Standard

অতীত দু প্রকার। ভাল স্মৃতি এবং খারাপ স্মৃতি। ডুবন্ত মানুষ যেরকম খড় কুঠরি যাই পায় তাই ধরে বাঁচার চেষ্টা করে তেমনি জীবনে একের পর এক হোঁচট খাওয়া মানুষ গুলো বাঁচার চেষ্টা করে কেবলই ভাল স্মৃতি গুলোকে আঁকড়ে ধরে। বেঁচে থাকার সব গুলো মানে যখন অর্থহীন হয়ে যায় তখনও কোথাকার কবের এক সুখের স্মৃতি নিয়ে এরা গোটা একটা জীবন পার করে দেয়।

যাদের অতীতে ভাল কোন স্মৃতি নেই; একটা হতাশা শেষ হবার পর আরেকটা হতাশা শুরু হওয়াটাই যাদের জীবন; তারা কী নিয়ে বাঁচবে ? বার বার বাঁচার চেষ্টা করে , একের পর এক বাঁধা বিপত্তি চড়াই উৎরাই পেরিয়েও শেষমেশ যার রক্ষা হল না; সে কোন সাহসে বাঁচার স্বপ্ন দেখবে ?

মানুষ জীবনের সব থেকে বড় ভুলটা করে এখানেই। একের পর এক দুঃসহনীয় চিন্তা করে সে কষ্ট পায় অথচ সে জানে না ভাল স্মৃতি জীবনকে সুন্দর করে আর খারাপ স্মৃতি সহনীয় করে তোলে।

কষ্টের স্মৃতি একটা সময় তোমাকে আর কষ্ট দেবে না; সহনীয় হয়ে উঠবে। প্রিয় কোন মানুষের মৃত্যু তোমাকে দশ বছর পর প্রথম দিনের মত কষ্টটা দেবে না। আমি বলছিনা বিশ বছর পর কষ্টটা একেবারে বিলীন হয়ে যাবে; কষ্টটা থাকবে তবে সময়ের ব্যবধানে সেটা তোমাকে আর কষ্ট দেবে না।

পৃথিবীর সব বিষাদগ্রস্ত মানুষ একটা সময় এসে পারভেসিভ নেগেটিভিটি’র দ্বারা আক্রান্ত হয়। কিছুই হয় নি এমন সব কিছুতেও এরা ভয়ংকর রকমের খারাপ কিছু খুঁজে বেড়ায়। ব্যাপারটি চক্রের মত ঘুরতে থাকে।

-> বিষাদগ্রস্ত মানুষের সহজাত প্রবৃত্ত হল, সে ক্রমান্বয়ে নেতিবাচক চিন্তা করতে থাকে
-> চিন্তা গুলো এক সময় বিশ্বাস করতে শুরু করে এবং
->আরও বেশি বিষণ্ণতায় ডুবে যায়।
আত্মহত্যা না বলে আমরা এটিকে হৃদয়হত্যা বলতে পারি।

দরজা জানালা বন্ধ এক বিষণ্ণ ট্রেনের যাত্রী হতে কার ভাল লাগে বল ? চোখ বন্ধ করলে প্রিন্সেসের বদলে এক দৈত্য এসে উপস্থিত হয়। এখান থেকে মুক্তি পাবার আদৌ কী কোন উপায় আছে ?
দু চারটা অনুপ্রেরণার কথায় যদি হতাশা থেকে নিস্তার পাওয়া যেত তাহলে প্রত্যেকেই দুশো টাকা খরচ করে ডেল কার্নেগীর রচনা সমগ্র ঘরে এনে সুখে শান্তিতে জীবন কাটিয়ে দিত।জীবনটা এত সহজ না।

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মনোবিজ্ঞানী অক্লান্ত পরিশ্রম করেও তোমার অশান্ত মন’কে শান্ত করতে পারবে না; কেননা তোমার প্রধাণ মনোচিকিৎসক তুমি নিজে। তুমি নিজেই রোগী এবং নিজেই ডাক্তার।
তোমাকেই মন দিয়ে শুনতে হবে তোমার দুঃখ দুর্দশার কথা। নিজেকেই নিজে টেনে তুলে সেবা যত্ন করে সুস্থ করতে হবে। পৃথিবীর উপর ক্রোধ রেখে কিছুই হবে না; পৃথিবী তোমার কেউ না। তুমি একদিন না খেয়ে থাকলে কারোই কিছু আসে যাবে না। খিদে যন্ত্রণায় তোমার পেটের নাড়িবুড়ি যেরকম অসহনীয় হয়ে উঠবে; অন্য কারো এমনটা হবে না।

ডুবন্ত মানুষ বাঁচার জন্য খড় কুঠরি যাই পায় তাই আঁকড়ে ধরে বাঁচার চেষ্টা করে; তুমি ডুবন্ত মানুষ না। বেঁচে থাকার জন্য তোমার কোন খড় কুঠরির প্রয়োজন নেই। যত যাই হোক; তুমি শুধু শক্ত করে তোমাকে আঁকড়ে ধর; তুমি কখনোই ডুবে যাবে না।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s