‘বাঘের বাচ্চা’ যদি গালি না হয়, ‘কুকুরের বাচ্চা’ কেন গালি হবে?

কিছুদিন আগে আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে অনেক গঠনমূলক আলোচনা করছিলাম। অলোচনার মূল বিষয় অবশ্য ছিল মেয়েদের গঠন নিয়ে, মানে, তাদের চারিত্রিক গঠন নিয়ে। জানি না, কাকতালীয় নাকি কোকিলতালীয়ভাবে মেয়েদের পরেই কুকুরের চারিত্রিক গঠন নিয়েও অলোচনা শুরু করলাম। কুকুরকে মনে করা হয় পশু জাতির মধ্যে মানুষের সবচেয়ে ভালো বন্ধু। পশ্চিমা দেশগুলোতে তো অনেক স্বামী তার স্ত্রীর চেয়েও কুকুরকে বেশি ভালোবাসে। এ নিয়ে অনেক গল্প-কৌতুকও আছে। বিদেশের কথা বাদই দিলাম। আমাদের দেশেও অনেকে কুকুরকে অনেক ভালোবাসে। গ্রামে দেখা যায়, একটা কুকুরকে পরিবারের সদস্য হিসেবে দেখা হয়। কুকুর সেই পরিবারের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে। সেই পরিবারের কেউ বিপদে পরলে কুকুর তাকে বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পরে। কুকুরের সাথে মানুষের বন্ধুত্ব নিয়ে অনেক গল্প-সিনেমা আছে। আমার ফ্যাবরিট Hachi: A Dog’s Tale। মুভিটা যারা দেখেননি, দেখতে পারেন, চোখে জল চলে না আসলে আপনার মধ্যে সমস্যা আছে।
ফিরে আসি আসল কথায়। আমরা কথা বলার সময় রূপক অর্থে অনেক পশুপাখির নাম ব্যবহার করি । যেমন, কেউ যদি অনেক লম্বা হয় তাহলে আমরা বলি ’জিরাফের মত লম্বা’, কেউ যদি অনেক মোটা হয় তাকে আমরা বলি ’হাতির মত মোটা’, কেউ যদি কোন কথা দেরিতে বুঝে তাহলে আমরা তাকে বলি ’গন্ডারের চামড়া’। কারও কণ্ঠস্বর যদি অনেক সুন্দর হয় তাহলে তাকে বলি ’কোকিলের মত কণ্ঠ’, অনেকে আবার তাদের প্রেমিকা বা স্ত্রীকে আদর করে টিঁয়া-ময়না-ঘুঘু বলে ডাকে। আবার কেউ যদি অনেক বড় কোন কাজ করে ফেলে তাহলে তাকে আমরা বলি ‘বাঘের বাচ্চা’ অথবা ‘সিংহ’ ইত্যাদি। এমনকি আমাদের দেশের ক্রিকেটারদেরও আমরা টাইগার বা বাঘ বলে ডাকি। আর এদের মধ্যে যাকে মনে করা হয় মানুষের সবচেয়ে ভালো বন্ধু তার নাম আমরা ব্যবহার করি গালি হিসেবে! বাংলাদেশের কথা বাদই দিলাম, পশ্চিমা দেশগুলোতেও কুকুরের নামকে ব্যবহার করা হয় গালি হিসেবে। আমি একজনকে জিজ্ঞেস করলাম ‘বাঘের বাচ্চা’ যদি কোন গালি না হয়ে বাহাবা হয়ে থাকে, তাহলে ’কুকুরের বাচ্চা’ কেন গালি হবে?’’ সে বলল, বাঘ হল শক্তির প্রতীক, তাই কাউকে শক্তিশালী বা সাহসী বোঝাতে এটা ব্যবহার করা হয়! আমার কথা হলো, কুকুরের নাম তো মানুষ বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবেও ব্যবহার করতে পারতো। বাঘকে এতো সম্মান দেখানোর কী আছে, জঙ্গলে একা পেলে সে কি আমাকে ছেড়ে দিবে? দেখা গেল আমার বন্ধু আমার অনেক বড় একটা উপকার করেছে আমি তাকে বললাম, ‘দোস্ত, তুই আজকে কুত্তার মত একটা কাজ করলি, তুই আসলেই একটা কুত্তার বাচ্চা!’ এই যে আমি কুকুরের হয়ে বিনে পয়সায় এতো উকালতি করলাম, এর পরও যদি কেউ আমাকে কুকুরের বাচ্চা বলে তাহলে আমিও হয়তো রেগে যাবো, বাঘের বাচ্চা বললে খুশি হব কারণ আমরা সবাই শক্তের ভক্ত, নরমের যম!

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s