এই বিদেশ ,নতুন দেশ , বিমান এগুলি একটা আবেগ , ভালবাসা, স্বপ্ন !

Standard
জীবন তখনই আমার সুন্দর ছিল যখন বাংলাদেশ এয়ারপোর্ট এর পাশ দিয়ে গেলে নিজেকে অনেক বড় মাপের মনে হইত।
বিমান , এয়ারপোর্ট আমার কাছে কি না কি জানি একটা ব্যাপার। আগে বিমান নিয়ে কত চিন্তা ছিল।
 
আসলে বিমান উড়ে ক্যামনে ? বিমান এর ভিতরে যে ওয়াশ-রুম আছে ওইটায় ক্যামনে মানুষ কি জানি করে ? সব কি অটো কাজ করে নাকি। বিমান এর ভিতরের মানুষ গুলা কেমন, অনেক টাকার মালিক মনে হয় ?
বিমান যে চলায় রাত কইরা ক্যামনে চিনে এক দেশ থেকে আরেক দেশ ?
 
একদিন নিজেই চলে গেলাম বিমান বন্দর কিন্তু কিছুই বের করতে পারলাম না।
 
তারপর শুরু হইলো কলেজ জীবন , খারাপ ছাত্র ছিলাম তাই আমার আবার রাতের বেলাও ক্লাস নিত। কলেজ এর ৫ তলা থেকে ঢাকার এয়ারপোর্ট দেখা যাইত। তখন রাত ৯.৩০ এর দিকে এমিরাত এর বিমান বাংলাদেশ থেকে উড়ে যাইত। আর ঐটা দেখে আমি আর আমার পাশে বসা দাদা চিন্তা করতাম আমি যেকোনো দেশ আর ঐ দাদা আমেরিকা যাবেন। কিন্তু কপাল আমি দেশ এ নাই, কিন্তু ঐ দাদা দেশ এই আছেন, সমবেদনা রইল দাদার জন্য, আপনার আমেরিকার ইচ্ছা সফল হোক।
 
আমি যখন ২য় বারের মত এয়ারপোর্ট এর ভিতরে যাই, তখনই আমার বিমান, বিদেশ এগুলির ভূত মাথায় আসে।
 
২য় বারের মত এয়ারপোর্ট এ আসলাম, কাহিনী কি , বাচ্চা যাবে ইটালি আমি আসছি শেষ দেখা দিতে। বাংলাদেশ এর রাস্তার জ্যাম এর কারণে আমার অনেক দেরি হয়ে গেল। কোন রাস্তা নাই, দেখা করার। কিন্তু কোন মাধ্যমে আমি ইম্মিগ্রেসন এর নিরাপত্তা কর্মী যে দরজা ব্যবহার করে, ঐ দরজায় দেখা করলাম। দরজার ব্যাপার তা এমন ছিল একটা রো এর ২ দিকে ২ জন । কথা বলি, আদর করি। শেষ সময় পিছন ঘুড়ে টাটা দিয়ে চলে আসলাম।
 
তারপর থেকেই আমার চিন্তা আমার এই এয়ারপোর্ট এর ভিতরে কি আছে ঐটাই দেখার, বিদেশ কাকে বলে, সাথে আমার সব জয় করতেই হবে।
 
জীবন এ প্রথম যে দিন বিমান এ উঠবো আরেক দেশ এ যাব, আমি এয়ারপোর্ট এর ভিতরে যাইয়া তো পুরাই মাথা নষ্ট।
 
বিমান এর টিকেট নিয়ে বোর্ডিং – পাস নিলাম, এখন আমার কি করতে হবে বুজতেছি না। ২০ মিনিট বইসা রইলাম। তারপর মাথায় আসলো, এই জায়গায় তো সবায় আসতে পারে , এখন ভিতরে যেতে হবে রে ভাই। জীবন এ প্রথম ইম্মিগ্রেসন ক্রস করলাম। ভিতরে তো কঠিন ব্যাপার। মা কসম আমি দেশ এ থাকতে এমন এয়ারপোর্ট এর ভিতরে এমন থাকতে পাড়ে আমি চিন্তা ও করি নাই। যাই হোক শেষ পর্যন্ত বিমান এ উঠলাম, আরে কি যে মজা , বিমান উড়ে, বিমান এর জানালা দিয়ে আমি ঢাকা শহর দেখলাম। আবার দেখা বিমান এর ভিতরে আমার কান এর মধ্যে কেমন জানি লাগে।
 
ছোট যাত্রা ছিল তাই বুজতে পারি নাই, আসল ব্যাপার গুলা।
তারপর ইউরোপ যাব এখন নাকি আমার ২ তা বিমান পরিবর্তন করতে হবে। দেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে যাব। ব্যাপার গুলাই যেন কেমন।
 
ইউরোপ যাব তখন আর বাংলাদেশ এয়ারপোর্ট কে কিছুই মনে হয় নাই, আমি সবই জানি ভাবের সাথে উঠে গেলাম, বিমান এ। অনেক বড় বিমান, মধ্যপ্রাচ্য এর দেশ এ গেল, নতুন এয়ারপোর্ট , নতুন মানুষ, নতুন আবহাওয়া ব্যাপার গুলাই অন্য রকম।
 
তারপর আবার বিমান ধরে , শেষ আমি ইউরোপ এসে পড়লাম। আবার নতুন এয়ারপোর্ট , সব সাদা মানুষ , বাইরে মাইনাস ৭ , এমন বরফ ঠাণ্ডা, নতুন সকাল নতুন দেশ।
 
এই বিদেশ ,নতুন দেশ , বিমান এগুলি একটা আবেগ , ভালবাসা, স্বপ্ন !

একজন মানুষের না; এই গ্রহের সব মানুষের গল্প

Standard

একটা সত্যিকার সাংঘাতিক গল্প।
মানুষটির বয়স যখন ছয় কী সাত; তখন তাকে ছাদের একটি ঘরে আঁটকে রাখা হয়। কিছু বই দিয়ে বলা হল, তুমি এখন বন্দী। বই পড়। হাইস্কুলে যেদিন উঠবে সেদিন এই ঘরের চাবি খুলে দেয়া হবে।

ছেলেটি পড়া শুরু করল। খাটের উপরে বসে পড়তে শুরু করল স্বর বর্ণ – ব্যঞ্জন বর্ণ… হাইস্কুলে উঠলেই ছাদের দরজা খুলে যাবে। দরজা খোলা জরুরী। বড়দের মত যখন ইচ্ছে একা একা সাহাব স্টোরে যাবার জন্য হলেও জরুরী।

হাইস্কুলে উঠার পর সত্যি সত্যি ছাদের দরজা খুলে দিল। সিলিং ছাদের বদলে নীল নীল এগুলো কী? আকাশ! কী সর্বনাশ! আকাশের বুকে আবার নীল নীল বাতি কেন! ডিম লাইট নাকি? নক্ষত্র!

ছেলেটি ছাদ থেকে নিচে তাকিয়ে দেখে কত মানুষ রাস্তায় হাঁটাহাঁটি করছে! পৃথিবীতে এত মানুষ! এদের সবার বাবা মা আছে! পরিবার আছে! প্রত্যেকের একটি করে ঠিকানা আছে! কী চমৎকার নকশা!

ছাদ থেকে নামতে গিয়ে দেখে সিঁড়ী ঘরে একটি কলাপ্সিবল গেট লাগানো। গেট ধরে ঝাকি দিতেই একজন এসে কিছু বই দিয়ে গেল!
‘ গেট খুলে দিন। আমি রাস্তায় যাব’
‘যেতে চাইলেই তো যাওয়া যায় না। তোমার আরো কিছু দায়িত্ব আছে। এই বই গুলো পড়। অংক আছে। জ্যামিতি আছে। ম্যাট্রিক পাশ করতে হবে। কলেজে উঠে গেলেই একেবারে স্বাধীন তুমি; এই গেট খুলে যাবে’।

চার পা ওয়ালা টেবিলের উপর বসে পড়া শুরু করল- চৌবাচ্চর পাটিগণিত। কলেজে উঠা মানেই চিকন চিকন নতুন গোঁফের রেখা। একেবারে বড়দের মত যখন ইচ্ছে আনামস প্লাজায় চলে যাওয়া। ভাবতেই গা শিওরে উঠে… কবে বড় হবে সে! বড় হওয়া জরুরী; ছোট হওয়া থেকে মুক্তির জন্য হলেও জরুরী।

সদ্য গজানো গোঁফের রেখা নিয়ে নতুন নতুন প্রেমে পড়ার জগত! কী আশ্চর্য অনুভূতি! কাউকে পেয়ে অথবা না পেয়ে এত আনন্দ হয় কেন!

ইলেক্ট্রিসিটি চলে গেলে রেকর্ড প্লেয়ারে অঞ্জনদা ছেড়ে দিলেই মরে যেতে ইচ্ছে করে! কি আশ্চর্য! মরে যেতে এত ভাল লাগে কেন!
কলাপ্সিবল গেট খুলে দেয়া হল। সিঁড়ি দিয়ে চাইলেই নেমে আসা যায়। সন্ধার সাথে সাথে বাসায় ফিরতে হবে বলে তাড়া থাকে না। বড়দের মত দু একবার সিগারেট খাবার পরেও তাকা বুঝিয়ে দেয়া হল তুমি এখনো বড় হও নি।
‘ কেন?’
‘ তোমাকে আরেকটু পড়ালেখা করতে হবে। এটাই শেষ। এর পর তুমি সম্পূর্ণ স্বাধীন’
‘ তখন আমি যা ইচ্ছে করতে পারব?’
‘ হুম পারবে’
‘দূরে গিয়ে নিজের মত করে স্বপ্ন বানাতে পারব?’
‘ পারবে…’

চার পা ওয়ালা টেবিলের উপর বসে পড়া শুরু করল- বিশ্ববিদ্যালয়ের বই। প্রতি বছর বছর ক্যালেন্ডারে কত কিছু হারিয়ে যায় … বেটম্যানের স্টিকার , আলিফ লায়লা, এক টাকার দশটা মার্বেল … কাঠপেন্সিল ছেড়ে গেল; বলপয়েন্ট এল।
আর কিছুদিন পরেই দেশের সর্বচ্চ ডিগ্রীর সার্টিফিকেট ফ্রেমে করে দেয়ালে বাঁধানো যাবে। এরপর পুরোপুরি স্বাধীন।

রাত করে বাড়ি ফিরলেও কেউ কিছু বলবে না। কাউকে পছন্দ হলে তাকে বিয়ে করার ব্যাপারটা মাথায় রাখা যাবে; এই বয়সে চাইলেই বিয়ে করা যায়!
ইচ্ছে করলেই কলেজ লাইফের রুমাকে নিজের কাছে নিয়ে আসা যাবে। সে একসাথে ডাইনিং টেবিলে বসে খাবার খাবে! এঘরে ওঘরে হেঁটে বেড়াবে! কি আশ্চর্য !

বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করার পর সে সত্যি সত্যি বিয়ে করে ফেলল। শোবার ঘরে দুটি ছবি ফ্রেমে করা বাঁধানো। একটি তার বিবাহের অন্যটি সর্বচ্চ ডিগ্রী ওয়ালা ছবি।
সেই বন্ধ ছাদ ঘর। বন্ধ কলাপ্সিবল গেট… সব খুলে গেল। আজ সে বের হবে। সে আজ মুক্ত! সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার পর বাসার মেইন গেটের কাছে এসে দেখে তালা ঝুলছে !!!

আর তো পড়ালেখার কিছু নেই! নিশ্চয়ই কারো কোথাও ভুল হচ্ছে…
তাকে বোঝানো হল; তুমি এখনো পুরোপুরি স্বাধীন না। তোমার কিছু দায়িত্ব আছে তো ব্যাটা… বিয়ে করেছো… সন্তান হবে। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। এই সময়টা তোমার রাস্তায় ঘুরে বেড়ানোর না। এটা সেটেল হবার সময়।

মানুষটি দশ বছর ধরে নিজেকে অনেক প্রতিষ্ঠিত করার পর গেট খুলে দেয়া হল। কি পেল জীবনে!!! কোলকাতার জোছনা ! ট্রেনের কেবিনের গল্প! মাছ ধরা সুনামগঞ্জের পুকুর! আহাআ… রাস্তায় কত মানুষ হাঁটছে! এরা কেউ সুখী না! এদের সবার একটি করে ভুল ঠিকানা আছে।

গলির রাস্তা থেকে বড় রাস্তায় যাবার পরেই তাকে আঁটকে দেয়া হল…
আমাকে আটকালে কেন! চল্লিশ বছর ধরে তোমাদের কথা শুনেছি। এখন অন্তত আমাকে মুক্তি দাও!
আপনে এখন আর শুধু আপনার না। আপনার সন্তান আছে। তারা বড় হয়েছে… তাদের ভবিষ্যৎ আছে।
একটি বাড়ি বানিয়ে যান… কিছু টাকা ব্যাংকে জমা থাকুক তাদের জন্য… তারা সুখ পাবে।

মানুষটি সারা জীবন নিজের মত করে একটু সময় কাটাতে চেয়েছিল! মরে যাবার দশ মিনিট আগেও সেই সুযোগ তিনি পান নি।
এই গল্পটি শুধু মাত্র একজন মানুষের না; এই গ্রহের সব মানুষের গল্প এটি…

Back stage

Standard

ফেইসবুকে প্রায়ই ‘ ইন এ রিলেশনশিপ’ এ যে দুজন মানুষকে দেখা যায়। সবাই হুমড়ি হয়ে তাদের অভিনন্দন জানায়। ইমো দেয়। কনগ্রেটস দেয়। ট্রিট হয়। ফুর্তি হয়।

‘ ইন এ রিলেশনশিপ’ শুধু মাত্র দুজন মানুষের এক হওয়া না। আরও অনেক মানে আছে।

কেউ একজন মনিটরের স্ক্রিনে তার কাছের মানুষটির সাথে অন্য কারো ছবি দেখছে। ক্লোজ কোন ছবি দেখার পর বাতি বন্ধ করে শুয়ে থাকে। ভিএলসি প্লেয়ারে ডেনভার ছেড়ে দিয়ে সিগারেট ফুঁকে। অসহ্য লাগে সব কিছু।

কেউ সেদিকটা খেয়াল রাখে না।

প্রতিটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যে দুজন মানুষকে স্টেইজে দেখা যায় সবাই ব্যস্ত সেই দুজন মানুষকে নিয়ে। তাদের ঘিরে আছে ক্যামেরা, রঙিন জামা কাপড়, মেকআপ।
তাদের জন্য পেট ভরে খাওয়া হয় মুরগির রানের মাংস। খাসীর মাংস। কলিজা।

বর এবং কনে ফ্রন্ট লাইনে বসে আছে। আমরা শুধু এই দৃশ্যটা দেখি। আমাদের খেয়াল থাকে না স্টেইজের পেছনে ব্যাকস্টেইজ থাকে।

বিয়ের অনুষ্ঠান মানে শুধু ক্লোজ-আপ কাছে আসার গল্প না।
আজ রাতে কারো বিয়ে হচ্ছে এর মানে আজ রাতে কারো প্রেমিকার বিয়ে… কোনদিন বলতে পারেনি…কিন্তু দুইটা ডাইরি লিখে ফেলেছে ; মেয়েটির আজ বিয়ে।

বাসর রাত মানে শুধু রজনী গন্ধা না। এর মানে আজ সারারাত কেউ বাংলা মদ খাবে। মাতলামি করে পিরিচ ভাঙ্গবে। সকালের দিকে বমি হবে।

ব্যাকস্টেইজে বসে থাকা মানুষ গুলা কেমন থাকে ? কেউ সেদিকটা খেয়াল রাখে না।
সব শালা ব্যস্ত রানের মাংস নিয়ে।

3rd step

Standard

সম্পর্কের তিনটা স্তর আছে। প্রথমটি মোহ। বেশির ভাগ মানুষ এক ধরনের মোহ থেকে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। মোহটা এমন হয় যে সে যত দূরেই থাকুক, যত অসাধ্য হোক তবু তাকে চাই। এখান থেকেই তাকে জয় করার একটা ব্যাপার চলে আসে। যে করেই হোক তাকে পেতে হবে।

তার পরের স্টেইজে সে চলে যায় ফ্যান্টাসিতে। এটি দ্বিতীয় স্তর। মোহের বিস্তীর্ণ পরিণতিই ডেকে আনে এই ফ্যান্টাসি। সাদামাটা একটা এসএমএস পড়া হয় একশ বার। তার ব্যাবহার করা টিস্যু সাথে রেখে দেয়া, সে চকলেট খেলে সেই চকলেটের প্যাকেট পকেটে রেখে দেয়ার মত পাগলামী গুলো এই সময়েই ঘটে।

এই সময়টাই সব থেকে সুন্দর সময়। তাকে কিছুটা পাওয়া এবং কিছুটা না পাওয়ার একটা ব্যাপার ঘটতে থাকে।মুশকিল হল, যে মুহূর্তে সে তাকে পেয়ে যাবে সেই মুহূর্ত থেকে তাকে জয় করার আর কিছু থাকে না।

তারপর কী সম্পর্ক ফিকে হয়ে যায়? তাহলে বছরের পর বছর এক ছাদে কী করে থাকে?

হমম থাকে। এই সময় সে ফ্যান্টাসি স্টেইজ থেকে চলে যায় তৃতীয় স্তরে। এটি মায়া। অনেক দিন একটা মানুষের সাথে কথা বললে এক ধরনের মায়া তৈরি হয়। তেলাপিয়া মাছ সে পছন্দ করে না বলে বাজার থেকে শৈল মাছ নিয়ে আসা। শৈল মাছের ঝোল তার খুব পছন্দ। রাতে ফার্মেসীতে গিয়ে এক পাতা ক্লোনাট্রিল কিনে আনা। না খেলে তার ঘুম হয় না।

এই সময় একটা মানুষ আরেকটা মানুষকে অনেক খুটিনাটি ভাবে জানে। বেশি খুঁটিনাটি জানার একটি দিক হল মায়া জন্মে যায় আরেকটি দিক হল মোহ কেটে যায়।
এক যুগ আগের মত ঘুম থেকে উঠে বলা হয় না – ‘ও বউ একটু সাজগুজ করো…চা খেতে খেতে দেখব তোমাকে”

ব্রেকাপ

Standard

ব্রেকাপ কেন হয় এর একশটা কারণ থাকতে পারে তবে ব্রেকাপের পর সম্পর্ক গুলো এত পানসে কেন হয়? ? একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে প্রতিদিন গড়ে এক লক্ষ ৪২ হাজার সম্পর্ক হচ্ছে আর ব্রেকাপ হচ্ছে ১ লক্ষ ৩০ হাজারেরও বেশি !!

একটি মানুষ যখন কিছুটা দূরে থাকে তখন আমরা ক্যামেরা জুম করে তাকে কাছে নিয়ে আসি। এই পর্যন্ত ঠিক আছে… বেশি জুম করা ভাল না… বেশি জুম করলে চেহারা ফেটে যায়… ত্বকের বিশ্রী দাগ চোখে এসে লাগে…

সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একি নিয়ম… বেশি কাছাকাছি মানুষকে দূরে ঠেলে দেয়…..তাকে রেস্পেক্ট করবেন… তার মতামতের গুরুত্ব দিবেন… এইগুলা ঠিক আছে… তবে দেবদাসের মত নিজের সব পছন্দ অপছন্দ বিলিয়ে দিবেন না।

নিজের একটা আলাদা আইডেনটিটি আছে… সেটা ধরে রাখুন… তার কদম ভাললাগে এটা জানার পর জানিয়ে দিন কদম আপনার অসহ্য লাগে… এর ঘ্রাণ দুর্গন্ধময় !

বেশিরভাগ মানুষ সম্পর্ক সুন্দর করার জন্য মিথ্যের আশ্রয় নেয়। সম্প্রতি একটি বই পড়ে জেনেছি মিথ্যে বলা সত্যের থেকে ত্রিশ গুণ কঠিন কাজ।
অন্যকে খুশি করতে গিয়ে প্রায় ৬০ ভাগ মানুষ কথা বলার সময় প্রতি ১০ মিনিটে একটা মিথ্যে বলে।

সে এবং আপনি আপনারা একি মানুষ। এইগুলা বোকামানুষের কথা। আপনাকে তার মত হবার দরকার নেই। তাকেও আপনার মত বানানোর প্রয়োজন নেই।

আছা… ব্রেকাপের পর সম্পর্ক গুলো এত পানসে কেন হয়? দুজন মানুষের এডজাস্টমেন্ট নাই হতে পারে। এর পর আর কোনদিন তার মুখ দেখা যাবে না। তার সাথে কথা বলা যাবে না। সে হল শত্রু পক্ষ !

ভাবা যায় দিনের পর দিন আমরা এই ছেলেমানুষি গুলো করে আসছি। একজন না খেলে অন্যজন খায় না। একজনের ঘুম না এলে অন্যজন ঘুমায় না। একজন টেনশনে থাকলে অন্যজন সেই টেনশন কেড়ে নেয়… একজন পরীক্ষায় খারাপ করলে ফোনের ওপাশ থেকে অন্যজন কান্না করে।

সেই একি মানুষ গুলোই সামান্য ব্রেকাপ হলে একজন অন্যকে গালাগালি করে বেড়ায় ! মানুষকে ভালবাসতে শিখুন। মৃত্যুর আগে টলস্তয়ের শেষ কথা ছিল ‘ আমি পৃথিবীর প্রত্যেকটি মানুষকে ভালবাসি’

সম্পর্কের ডেফিনেশন কী ?

সমরেশ পড়েছেন? মাধুবিলতার কথা মনে আছে ? অনিমেশ ? অনিমেশ প্রতিবন্ধী… হাঁটতে পারে না। তাদের ছেলে একদিন জিজ্ঞাসা করল; তারা কেন বিয়ে করে নি ? মাধুবিলতার জবাব ছিল ; কাগজের দরকার হয় নি… তাই করে নি; সে যে একজন প্রতিবন্ধি মানুষকে বছরের পর বছর আগলে রেখেছে এই সম্পর্কটা কী যথেষ্ট না?

সম্পর্ক কোন সোশ্যাল নেটওয়ার্কের রিকোয়েস্ট না; একসেপ্ট করলেই শুরু হয়ে গেল আর রিমোভ করলেই শেষ। একটা মানুষ মারা যাবার পরেও সম্পর্কগুলো দাবী ছাড়ে না। ফ্রেমের শুকনো ছবি মুখে এনে চুমো খাবে। বুকের কাছে এনে পরম মমতায় হাত বুলিয়ে দিবে। কোনদিন যদি আবার কথা হয়; তবে কী কথা বলবে এইসব ভেবে জায়নামাজে বসে পড়বে।

মানুষটাকে এখন না হোক; এককালে তো ভালোবাসতেন ? অন্তত সেই দাবীতে সম্পর্কটাকে ভালবাসুন।

আত্মহত্যা আপনাকে প্রায়শ্চিত্ত করার কোন সুযোগ দিবে না।

Standard

যে তিনটি কারণে আমরা সুইসাইড করি…

জাপানে “সি অফ ট্রি” নামে একটি বন আছে… যেখানে কিছুদূর হাঁটলেই দেখতে পাবেন গাছ গুলোর ডালে মানুষের কঙ্কাল ঝুলছে …

প্রতি বছর এখানে প্রচুর মানুষ সুইসাইড করতে আসে… কেউ কেউ অনেক দূর দেশ থেকে টাকা খরচ করে মরতে আসে। মানুষ নিরিবিলিতে মারা যেতে পছন্দ করে।

মৃত্যুর জন্য এই জায়গাটি বেছে নেয় কেন জানেন? যেন কেউ কখনো খুঁজে না পায়… মানুষ বড় অভিমানী প্রাণী…

মনোবিজ্ঞানীরা এখন আমাদের বলছে প্রতিটি সুইসাইডের রক্তে তিনটি জিনিস মিশে থাকে… ১- অভিমান ২ – হতাশা ৩– আত্মবিশ্বাসের অভাব…

পুলিশ সদর দপ্তরের হিসেব অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি বছর সুইসাইড করছে প্রায় দশ হাজার ! অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন ২৭ জন !! এই টুকু একটা দেশে প্রতি ঘণ্টায় ১ জনের বেশি সুইসাইড করছে !!! এত অভিমানী কেন আমরা ?

একজন মানুষ সকালে ঘুম থেকে উঠে অফিস করলেন। ফেরার সময় মেয়ের জন্য জ্যামিতি বক্স কিনে আনলেন। রাতে খাবার খেয়ে নাটক দেখলেন। ঘুমানোর আগে স্ত্রীর সাথে ছোট খাট ঝগড়া হল। ঘণ্টা খানেক পর বিষ খেয়ে ফ্লোরে পরে আছে …

এই ব্যাপার গুলো কেন ঘটে ? মানুষ সাধারণত একটি বিশেষ ঘটনায় সুইসাইড করে না। এই রোগটি সে তার ভেতরে অনেক দিন থেকে লালন করে।

মানুষের অনুভূতি অনেক বেশি…মানুষ আত্মহত্যা করে… পাখিরা কেন করে ? প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট সময়ে ভারতের একটি বিশেষ জায়গায় এক সাথে অনেক পাখি দলবদ্ধ ভাবে সুইসাইড করে। এর ব্যাখ্যা কী আমি জানি না।

একজন আমাকে বলেছে , সেখানে এক সময় পাখিদের খাবার ফুরিয়ে আসে… বাচ্চা পাখি গুলোকে বাঁচার সুযোগ করে দিতেই বৃদ্ধ পাখিরা দলবদ্ধ ভাবে আত্মহত্যা করে।
এ নিয়ে বেশ কিছুদিন আগে আমি একটা গল্প লিখেছিলাম।

গল্পটি সিজোফ্রেনিয়া রোগে আক্রান্ত একটি পাখি কে নিয়ে। মারাত্মক সব ডিলিউশন কী শুধু মানুষের ক্ষেত্রেই হয় ?

স্কটল্যান্ডের ‘ ওভার টাউন’ ব্রীজের রহস্য কী ? প্রতি বছর শত শত কুকুর এখানে এসে আত্মহত্যা করছে। তারা ব্রীজ থেকে নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ছে… এই নিয়ে যথেষ্ট গবেষণা হয়েছে… নিশ্চিত করে কেউ কিছু বলতে পারছে না…

কুকুর কিংবা পাখিদের অভিমান- হতাশা বলে কিছু থাকতেই পারে… এই নিয়ে আমার মাথা ব্যথা নাই।

আমার চিন্তা মানুষের মস্তিষ্ক নিয়ে…

এরা কষ্টকে কেমিস্ট্রির বোতলে ঢুকিয়ে ল্যাবে গিয়ে গবেষণা করতে পারে…

এরা বিশাল সাইজের হাতি দিয়ে সার্কাস খেলে… অজগর সাপ হাতে নিয়া ঘুরে বেড়ায়. সম্প্রতি রোবটের ভেতরে আবেগ মিশিয়ে দেবার কাজ করছে… এরা কেন অভিমান করে চলে যাবে ? .

এই পৃথিবীতে আপনার উপস্থিতি আপনার মস্তিস্কের ব্যাবহার অনেক বেশি প্রয়োজন…সেটা ব্যাবহার করুন…

অভিমান করে চলে যাবার জন্য আপনার জন্ম হয় নি…

সব থেকে বড় ব্যাপার কী জানেন ? একজন ধর্ষক , একজন মাতাল , ঘুষখোর , বেশ্যা এরা প্রত্যেকেই প্রায়শ্চিত্ত করার সুযোগ পাবে… ; আত্মহত্যা আপনাকে প্রায়শ্চিত্ত করার কোন সুযোগ দিবে না।

সিঙ্গেল

Standard

সিঙ্গেল লাইফের মানুষ গুলো আসলে সিঙ্গেল থাকে না। তাদের সাথে সব সময় কেউ একজন থাকে। খুব সুন্দর কোন দৃশ্য দেখার পর তারা ভাবে; যেদিন মানুষটার সাথে পরিচয় হবে সেদিন তাকেও নিয়ে আসবে একদিন।

আকাশে কোন বিমান উড়ে গেলে তার কথা মনে পড়ে। জয় গোসাম্বির কবিতা পড়ার সময় তাকে চোখের সামনে দেখা যায়। এক এক লাইনে তাকে এক এক জামায় দেখা যায়।

চেহারার একটা অবয়ব… ভ্রু কুঁচকে ফেলার অবয়ব… সে কেমন থেমে থেমে কথা বলে… হাত নাড়িয়ে হাঁটে !

আচ্ছা কাল্পনিক ভালবাসা বলে কী কিছু আছে ? সম্পর্কে যারা জড়ায় তারা নাহয় একজন কাউকে নিজের মত করে পায়…

যারা জড়ায় না… তাদের কী আসলেই কেউ থাকে না?

মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় “ইরোটোমেনিয়া”

কারো সাথে সম্পর্ক নেই…সপ্তাহে দু দিন দেখা করার ব্যাপার নেই… কোনদিন কাউকে ফোন করে বলা হয় না স্বপ্ন ভাঙ্গার কোন গল্প…

তবু কেন মধ্যরাতে কলকাতার অঞ্জন এসে চোখ ভিজিয়ে দেয় ? ট্রেনের জানালায় হেডফোন লাগালে আপনার ভেতরে এরকম আলোড়ন সৃষ্টি হয় কেন ?

কেউ আপনার সাথে নেই তবু খুব সুন্দর কোন মুভি দেখার পর আপনার গা ছমছম করে উঠে… মনে হয় নীরা নামের কবিতা গুলো সুনীল আপনার জন্য লিখেছে…

একদম আপনার জন্য…

কেউ আপনার সাথে নেই শুধু সমুদ্রের ছাতার নিচে কফি খেলে আপনার ভেতরে তোলপাড় হয়… এমন কেন হয় !!

সিঙ্গেল লাইফের মানুষ গুলো আসলে সিঙ্গেল থাকে না। এরা থাকে ডিমেন্সিয়া প্রিকক্স নামে এক কাল্পনিক জগতে। কখনো দেখা হয় নি ; তবু দেখা হয়েছে লক্ষ লক্ষ রাতে।

মাঝে মাঝে একটা মানুষকে নিয়ে আপনি ভাবেন। এই পৃথিবীটা খুব নিষ্ঠুর মনে হলে মানুষটার সাথে কথা বলেন। কি কথা হয় মানুষটা জানে না। কথা গুলোও জানে না মানুষটা কে !

……হেরে গিয়ে ফ্লোরে চিত হয়ে ফুরিয়ে যাবার সময় এই মানুষটার কথা ভেবেই আবার ঘুরে দাড়াতে হয়। একদম এক রুমের জরাজীর্ণ মেসের লাইফটাকে গোছাতে হয় এই মানুষটাকে ভেবে।

কী নাম তার ? এই শহরে থাকে ? বড় গাড়ি ঢুকে না এরকম কোন গলিতে থাকে ? কোথাও না কোথাও তো ঠিকই আছে…

সে দেখতে কেমন ? শ্যামলা ? একটু বোকা নাকি ?

প্রিয় রঙ বলে আসলে কিছু নেই।

Standard

প্রিয় রঙ বলে আসলে কিছু নেই। বিয়ের কনের কাছে লাল শাড়ি ভাল লাগলেও লাল রক্ত ভাল লাগবে না। লাল শাড়ি স্বপ্নের প্রতীক হলেও লাল রক্ত ভয়ের প্রতীক।

হয়ত কোন দোকানে গিয়ে হলুদ টিশার্ট পছন্দ করলেন কিন্তু গাড়ি কেনার সময় এই রঙটাই অসহ্য লাগবে। প্রিয় রঙের ঝামেলা থেকে বাঁচতে অনেকেই কালো রঙ বেছে নেয়।

তবে তার ঘরের দেয়ালে এই রঙ লাগাতে বললে অবশ্যই সে নিষেধ করবে। প্রিয় রঙ বলে আসলেই কিছু নেই।

ব্যাপারটি এক ধরনের ক্ষেত্র বিশেষ। ভিন্ন ভিন্ন বস্তু আপনার ভিন্ন ভিন্ন রঙে ভাল লাগছে।

সময় বলেও আসলে কিছু নেই। সূর্য উঠেও না। নামেও না। আমরাই চারদিকে ঘুরি। সময় চলতেই থাকবে…

অন্য ভাবে চিন্তা করলে পৃথিবী সৃষ্টির আগেও সময় ছিল।

একে ঘড়ি দিয়ে হিসেব করে ফায়দা নেই। ঘড়ি ইতিহাস কিছুই এটাকে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারবে না। … সময় চলতে থাকবে অমীমাংসিত কোন রহস্যে। পৃথিবী ধ্বংসের পরেও সময় চলবে। কেয়ামতের পরেও চলবে।

বিষয়টা সহজ মনে করলে সহজ। জটিল মনে করলে জটিল।

প্রিয় মানুষ বলেও আসলে কিছু নেই। ব্যাপারটা ক্ষেত্র বিশেষ। আজ যে মানুষটিকে খুব কাছের বলে মনে হচ্ছে ; মানুষটির সাথে পরিচয় না হলে এমনটা হত না।

আপনার জন্ম লেবানন কিংবা জাপানে হলে আপনি অবশ্যই সেই দেশের কোন মানুষকে ভালবাসতেন।

…..অঞ্জন শোনা হত না। দরজা বন্ধ করে শুনতেন জাপানী কোন চিউ মিউ সঙ্গীত। চিউ মিউ শোনে মরে যেতে ইচ্ছে করত উসাই মং এর জন্য।

বড় বড় না তার ছোট ছোট চোখ গুলোকেই মনে হত পৃথিবীর সব থেকে নিখুঁত শিল্প।

তার জন্মই হয়েছে আপনার জন্য , দুজন মিলে একাকার , তাকে ছাড়া চলবে না… এই গুলা বাজে কথা।

পেট ওয়ালা ট্রাক ড্রাইভার মনছুর পাছা চুলকাতে চুলকাতে পানের ফিক ফেলল। এই দৃশ্য দেখে কোন সুন্দরী ‘ ইয়াক ‘ করে উঠল।

ঠিক এই মেয়েটির জন্মই যদি মনছুর ড্রাইভারের ঘরে হত তাহলে রাস্তায় দাড়িয়ে বিশ্রী ভাবে পাছা চুলকানো মানুষটিকেই তার মনে হত পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বাবা।

প্রিয় মানুষ ব্যাপারটা আপেক্ষিক। ক্ষেত্র বিশেষ।

জন্মের পর পৃথিবীর কেউই প্রিয় এবং অপ্রিয় থাকে না। আমরাই কোন কাউকে প্রিয় এবং কাউকে অপ্রিয় বানিয়ে ফেলি।

অতীত

Standard

অতীত দু প্রকার। ভাল স্মৃতি এবং খারাপ স্মৃতি। ডুবন্ত মানুষ যেরকম খড় কুঠরি যাই পায় তাই ধরে বাঁচার চেষ্টা করে তেমনি জীবনে একের পর এক হোঁচট খাওয়া মানুষ গুলো বাঁচার চেষ্টা করে কেবলই ভাল স্মৃতি গুলোকে আঁকড়ে ধরে। বেঁচে থাকার সব গুলো মানে যখন অর্থহীন হয়ে যায় তখনও কোথাকার কবের এক সুখের স্মৃতি নিয়ে এরা গোটা একটা জীবন পার করে দেয়।

যাদের অতীতে ভাল কোন স্মৃতি নেই; একটা হতাশা শেষ হবার পর আরেকটা হতাশা শুরু হওয়াটাই যাদের জীবন; তারা কী নিয়ে বাঁচবে ? বার বার বাঁচার চেষ্টা করে , একের পর এক বাঁধা বিপত্তি চড়াই উৎরাই পেরিয়েও শেষমেশ যার রক্ষা হল না; সে কোন সাহসে বাঁচার স্বপ্ন দেখবে ?

মানুষ জীবনের সব থেকে বড় ভুলটা করে এখানেই। একের পর এক দুঃসহনীয় চিন্তা করে সে কষ্ট পায় অথচ সে জানে না ভাল স্মৃতি জীবনকে সুন্দর করে আর খারাপ স্মৃতি সহনীয় করে তোলে।

কষ্টের স্মৃতি একটা সময় তোমাকে আর কষ্ট দেবে না; সহনীয় হয়ে উঠবে। প্রিয় কোন মানুষের মৃত্যু তোমাকে দশ বছর পর প্রথম দিনের মত কষ্টটা দেবে না। আমি বলছিনা বিশ বছর পর কষ্টটা একেবারে বিলীন হয়ে যাবে; কষ্টটা থাকবে তবে সময়ের ব্যবধানে সেটা তোমাকে আর কষ্ট দেবে না।

পৃথিবীর সব বিষাদগ্রস্ত মানুষ একটা সময় এসে পারভেসিভ নেগেটিভিটি’র দ্বারা আক্রান্ত হয়। কিছুই হয় নি এমন সব কিছুতেও এরা ভয়ংকর রকমের খারাপ কিছু খুঁজে বেড়ায়। ব্যাপারটি চক্রের মত ঘুরতে থাকে।

-> বিষাদগ্রস্ত মানুষের সহজাত প্রবৃত্ত হল, সে ক্রমান্বয়ে নেতিবাচক চিন্তা করতে থাকে
-> চিন্তা গুলো এক সময় বিশ্বাস করতে শুরু করে এবং
->আরও বেশি বিষণ্ণতায় ডুবে যায়।
আত্মহত্যা না বলে আমরা এটিকে হৃদয়হত্যা বলতে পারি।

দরজা জানালা বন্ধ এক বিষণ্ণ ট্রেনের যাত্রী হতে কার ভাল লাগে বল ? চোখ বন্ধ করলে প্রিন্সেসের বদলে এক দৈত্য এসে উপস্থিত হয়। এখান থেকে মুক্তি পাবার আদৌ কী কোন উপায় আছে ?
দু চারটা অনুপ্রেরণার কথায় যদি হতাশা থেকে নিস্তার পাওয়া যেত তাহলে প্রত্যেকেই দুশো টাকা খরচ করে ডেল কার্নেগীর রচনা সমগ্র ঘরে এনে সুখে শান্তিতে জীবন কাটিয়ে দিত।জীবনটা এত সহজ না।

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মনোবিজ্ঞানী অক্লান্ত পরিশ্রম করেও তোমার অশান্ত মন’কে শান্ত করতে পারবে না; কেননা তোমার প্রধাণ মনোচিকিৎসক তুমি নিজে। তুমি নিজেই রোগী এবং নিজেই ডাক্তার।
তোমাকেই মন দিয়ে শুনতে হবে তোমার দুঃখ দুর্দশার কথা। নিজেকেই নিজে টেনে তুলে সেবা যত্ন করে সুস্থ করতে হবে। পৃথিবীর উপর ক্রোধ রেখে কিছুই হবে না; পৃথিবী তোমার কেউ না। তুমি একদিন না খেয়ে থাকলে কারোই কিছু আসে যাবে না। খিদে যন্ত্রণায় তোমার পেটের নাড়িবুড়ি যেরকম অসহনীয় হয়ে উঠবে; অন্য কারো এমনটা হবে না।

ডুবন্ত মানুষ বাঁচার জন্য খড় কুঠরি যাই পায় তাই আঁকড়ে ধরে বাঁচার চেষ্টা করে; তুমি ডুবন্ত মানুষ না। বেঁচে থাকার জন্য তোমার কোন খড় কুঠরির প্রয়োজন নেই। যত যাই হোক; তুমি শুধু শক্ত করে তোমাকে আঁকড়ে ধর; তুমি কখনোই ডুবে যাবে না।

ঢাকা ভার্সিটির হলে একটা সীট

Standard

ঢাকা ভার্সিটির হলে একটা সীট পাওয়া মানে ভয়ংকর ঘটনা। আমি একজনকে চিনি যিনি গর্ব করে বলতেন, জগন্নাথ হলে আমার একটা সীট আছে। তবে সেটা চকির নিচে।

জায়গা না পাবার কারণে যুবক বালিশ তোষক নিয়ে চকির নিচে শুয়ে পড়ে। এতে তার কোনই সমস্যা হয় না। চকির নিচে ছোট ডিম লাইট, মিনি টেবিল ফ্যান, সব মিলিয়ে ছোট খাট এক সংসার পেতে বসেছেন !

যুবকটি এখনো আছেন সেই হলে; প্রোফেসর হিসেবে !

……

ম্যাট্রিক পরীক্ষা পাশ করতে তার সাত বছর লেগেছে। প্রতিবার রেসাল্ট আঊট হবার পর তার ধারণা হত প্রিন্টিং মিস্টেইকের কারণে তার নাম আসেনি। তাকে নিয়ে হাসাহাসি লেগেই থাকত।

যুবক চিটাগাং কলেজে ভর্তি হতে গেলে তখনকার প্রিন্সিপ্যাল তাকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়। যুবকটি চলে যেতে যেতে প্রিন্সিপ্যালকে শুধু একটি কথা জানিয়ে যায়- একদিন আমি এই কলেজে প্রিন্সিপ্যাল হয়ে আসব।

যুবকটির নাম রেজাউল করিম। পরবর্তীতে তিনি এই কলেজে প্রিন্সিপ্যাল হয়ে যোগ দেন।

এই গল্পটি অনেকেই জানেন।

এক তরুণের জামা কাপড় খুব ময়লা থাকার কারণে পার্কের সিকিউরিটি গার্ড তাকে প্রবেশ করতে দেয় নি। বাচ্চা বয়সের সেই ছেলেটি আবার একদিন এই পার্কে আসে। তখন সে পার্কটির মালিক।
তাকে ঢুকতে না দেবার অপমানটাই তাকে সফল করে তুলেছে।

কিছুদিন আগে জ্যাক মা’কে নিয়ে একটি আর্টিকেল পড়লাম।

” প্রাইমারিতে দুইবার ফেল, মাধ্যমিকে তিনবার ফেল, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরিক্ষায় তিনবার ফেল, চাকরির জন্য পরিক্ষা দিয়ে ৩০ বার ব্যর্থ হয়েছি আমি।
চীনে যখন কেএফসি আসে তখন ২৪ জন চাকরির জন্য আবেদন করে৷ এর মধ্যে২৩ জনের চাকরি হয়৷ শুধুমাত্র একজন বাদ পড়ে, আর সেই ব্যক্তিটি আমি৷

এমনও দেখা গেছে চাকরির জন্য পাঁচ জন আবেদন করেছে তন্মধ্যে চার জনের চাকরি হয়েছে বাদ পড়েছি শুধুই আমি৷

প্রত্যাখ্যানের পর প্রত্যাখ্যানই দেখেছি আমি৷ হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য ১০বার আবেদন করে ১০বারই প্রত্যাখ্যাত হয়েছি৷”

যার কথা বলছি তিনি হলেন পৃথিবীর ৩৩ তম ধনী ব্যক্তি – জ্যাক মা।

লক্ষ করলে দেখবে তিনি খুব বেশি ট্যালেন্ট ছিলেন না। ট্যালেন্ট হলে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে দশবার ফেল করতেন না। তার সফলতার মন্ত্র কী জানো ?

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে তুমিও পরীক্ষা দিলে হয়ত টিকবে না। সেও টিকে নি। কিন্তু তুমি প্রত্যাখ্যান হবার পর হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে দশবার পরীক্ষা দিতে না। তার এবং আমাদের মাঝে পার্থক্যটা এখানেই।

তিনি লেগে ছিলেন। হাল ছাড়েন নি। আমরা একটুতে না হলেই হাল ছেড়ে কেটে পড়ি।

সবাই মেধা নিয়ে জন্মায় না। আলাদীনের চেরাগ নিয়ে ফু দিলেই সবার সামনে একটা দৈত্য এসে হু হা হা হা হা করে ওঠে না।

লাইফে স্ট্রাগল করতে গিয়ে সবাইকেই অবহেলিত হতে হয়। তবে সবাই অপমান গুলোকে ‘ জেদ’ এ পরিণত করতে পারে না।

ধাক্কা খেয়ে বের হয়ে লাইট বন্ধ করে হা হুতাশ করাটা সহজ। ধাক্কাটাকে দাঁত চিপিয়ে জেদ বানানোটাই কঠিন…

দুঃখ, কষ্ট, অবহেলা- অপমান এইসব জিনিস একদল মানুষকে দুর্বল করে দেয়। জীবনের আশা পানসে করে দেয়। বাঁচতে ইচ্ছে করে না। সব কিছু নিষ্ঠুর মনে হয়।

আরেকদল মানুষকে কঠিন করে তোলে… বাঁচার আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়। শোধ নেবার অদম্য এক ইচ্ছে তাকে সুন্দর করে তোলে।

পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে হলে মানুষের করুণা এবং অবহেলার প্রয়োজন আছে। কিছু একটা করার প্রেরণা তো এখান থেকেই আসে।